• শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেল আমদানিতে আপত্তি নেই: পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি বাবা-মা হারানো তাসফিয়াকে আগলে রাখেন চাচা, এসএসসিতে পেল জিপিএ-৫ জর্ডানে ভিক্ষুকের কাছে উদ্ধার হলো ৪৬ হাজার ৬০০ ডলার তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ায় ইতিহাস গড়ল ইমরান খানের মৃত্যুর গুজব: সেনাবাহিনী ও পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হলো জীবিত থাকার খবর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের লিড, তানজিদ-নাজমুলের দৃঢ়তা আরজি কর হত্যাকাণ্ড: সাবেক তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ গ্রেপ্তার ১০ জেলায় ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সংকেত ভাঙল মুমিনুল-তানজিদের ১০২ রানের জুটি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন

১৪ শিক্ষক-কর্মচারী, তবুও দাখিলে শতভাগ ফেল—তারাগঞ্জের মাদ্রাসায় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন। 

কুলসুম আক্তার সাথী, তারাগঞ্জ রংপুর। / ১৯ Time View
Update : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬

২৫

১৪ শিক্ষক-কর্মচারী, তবুও দাখিলে শতভাগ ফেল—তারাগঞ্জের মাদ্রাসায় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন।

 

কুলসুম আক্তার সাথী তারাগঞ্জ রংপুর।

রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বটতলী নমিরুল দাখিল মাদ্রাসা থেকে চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচজন পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। শতভাগ পরীক্ষার্থী ফেল করায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

গত সোমবার (১০ আগস্ট) দেশব্যাপী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফলের বিষয়টি সামনে আসে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তারাগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শাহিনুর ইসলাম।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সরেজমিনে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, মাদ্রাসাটিতে বিভিন্ন শ্রেণি মিলিয়ে কাগজে-কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৫০ জন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা এর তুলনায় অনেক কম—প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জনের মতো।

 

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৪ জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী রয়েছেন, যারা নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা পাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অথচ দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচ শিক্ষার্থীর সবাই ফেল করায় প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষক-কর্মচারীদের পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠানটি নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে। শিক্ষার্থী ভর্তি ও উপস্থিতি নিশ্চিত করা, নিয়মিত পাঠদান এবং পরীক্ষার ফলাফল উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।

 

স্থানীয় শিক্ষানুরাগী আমজাদ হোসেন বলেন, গ্রামাঞ্চলে শিক্ষার প্রসার ঘটানোর উদ্দেশ্যে এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা কার্যক্রম না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি তার মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে গেছে বলে মনে করছেন তিনি।

 

তিনি বলেন, “শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। পাঁচজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে একজনও পাস না করায় বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক।”

 

এদিকে, প্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফলকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে উপজেলা শিক্ষা প্রশাসন। তারাগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শাহিনুর ইসলাম জানান, মাদ্রাসাটির ফলাফল ও সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

শিক্ষাবিদ ও স্থানীয়দের দাবি, শুধু দায় নির্ধারণ নয়—প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী উপস্থিতি, শিক্ষক-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন, পাঠদানের মান, এমপিও সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক কার্যক্রম যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd