• বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
রূপসায় যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা জামায়াতের ১১ এমপির মির্জা ফখরুলকে বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান নববধূর স্বামীর কাছে মাদক পাঠিয়ে সাবেক প্রেমিকের গ্রেপ্তার বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ সাভারে অভিযান: ৯টি বিস্ফোরক ও গান পাউডার উদ্ধার বেলাবোয় দাখিলে ১৫ পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করেনি, মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন।  মানিকগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে হামলা, আহত ১০ অজিত দোভালের সঙ্গে দুই দিনের বৈঠক করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর শেখ হাসিনার জ্বালানি নীতির কারণে বিদ্যুৎ ভোগান্তি: ইশরাক হোসেন রায়পুরায় ১৮টি জাল ৫০ টাকার নোটসহ যুবক আটক

বেলাবোয় দাখিলে ১৫ পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করেনি, মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন। 

আর এ লায়ন সরকার / ৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬

বেলাবোয় দাখিলে ১৫ পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করেনি, মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন।

আর এ লায়ন সরকার, নরসিংদী।

নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় সুটুরিয়া ফজলুল হক খান দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৫ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করেনি। সদ্য প্রকাশিত ফলাফলে এমন ফলাফলের পর প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম, ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বেলাবো উপজেলার পাটুলী ইউনিয়নে অবস্থিত সুটুরিয়া ফজলুল হক খান দাখিল মাদ্রাসা। চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ১৫ জনের মধ্যে একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থ হয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানান। একই সঙ্গে মাদ্রাসার ফলাফল সম্পর্কেও তিনি অবগত নন বলে দাবি করেন।

বেলাবো উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ উমর ফারুক বলেন, “এ ধরনের ফলাফলের কারণ জানতে প্রতিষ্ঠানটির কাছে লিখিত কৈফিয়ত চাওয়া হবে।”

তবে ফলাফল বিপর্যয়ের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক শিক্ষা পরিবেশ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রাসাটিতে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও আসবাবপত্র নেই। কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বসার জন্য প্রয়োজনীয় বেঞ্চও নেই বলে দাবি স্থানীয়দের।

মাদ্রাসাটির সাবেক শিক্ষিকা পারভীনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে। তাঁর দাবি, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১৫ জনের মতো। বিভিন্ন খাতে অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও শিক্ষা পরিবেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের কারণে অভিভাবকদের মধ্যে আস্থা কমেছে। ফলে নতুন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করতেও অনেকে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

এ ছাড়া মাদ্রাসাটিতে কয়েকজন শিক্ষকের ভুয়া এনটিআরসিএ সনদ থাকার অভিযোগও দীর্ঘদিনের বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো কাগজপত্র বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রতিষ্ঠানটির জন্য সরকারি বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ ও শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাবদ অর্থ ব্যয়ের পরও কেন শিক্ষা পরিবেশ ও ফলাফলের এমন অবস্থা—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে সুপার সিদ্দিকুর রহমান অসুস্থ থাকার কথা জানিয়ে ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

বেলাবো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের ১৫ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস না করার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শুধু পরীক্ষার্থীদের দায়ী না করে এর পেছনে শিক্ষকদের পাঠদান, নিয়মিত ক্লাস, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, একাডেমিক তদারকি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ভূমিকা খতিয়ে দেখা জরুরি।

স্থানীয়দের দাবি, মাদ্রাসাটির ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষক নিয়োগ ও সনদ, শিক্ষার্থী উপস্থিতি এবং শিক্ষা কার্যক্রমও যাচাই করা হোক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd