মানিকগঞ্জের সিংগাইরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহনকারী ‘কালীগঙ্গা’ বাসে হামলার ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর, একজনের মাথা ফেটে গেছে এবং অন্যজনের শরীরে ভাঙা কাচ ঢুকে জখম হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বাসটি সিংগাইরের দিকে যাচ্ছিল। সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় একটি অটোরিকশার সঙ্গে বাসটির ধাক্কা লাগে। এ সময় অটোরিকশার আরোহী কাউসারের সঙ্গে বাসের যাত্রীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, বাসের শিক্ষার্থীরা কাউসারকে মারধর করেন। পরে কাউসার কয়েকজন সহযোগী নিয়ে বাসটির ওপর হামলা চালান।
হামলার সময় গ্যাসের পাইপ দিয়ে বাসটির জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়। এতে আহতদের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী রিম্বি আক্তার ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী পূর্ণিমা আক্তার রয়েছেন। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে মানিকগঞ্জ ও সিংগাইর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ড. তারেক বিন আতিক জানান, হামলার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, কাউসারের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, তার ছেলের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কথা-কাটাকাটি হয় এবং পরে হামলার ঘটনা ঘটে। সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, হামলার ঘটনায় বাসটি সরাসরি জড়িত নয়, তবে স্থানীয়রা মনে করেছিলেন এটি জড়িত। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।