পলাশে কাপড়ের হাটের টাকা বণ্টন নিয়ে বিরোধ, ৭ বাড়িতে হামলা-লুটের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী:
নরসিংদীর পলাশে কাপড়ের হাটের টাকা বণ্টনকে কেন্দ্র করে এক যুবককে মারধর, সাতটি বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাসিন (৮) নামে এক শিশু আহত হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ২ আগস্ট সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার জিনারদি ইউনিয়নের পণ্ডিতপাড়া-সাকুরগাঁট সংলগ্ন কাপড়ের হাট ও গাবতলী এলাকায়।
এ ঘটনায় গাবতলী গ্রামের বাসিন্দা মো. বাদল মিয়া ৩ আগস্ট পলাশ থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্তরা হলেন—আতাহার ইস্তিয়াক গাজী (৩০), আমানউল্লাহ ভূঁইয়া (৩০), সোলেমান গাজী (৫০) ও বাছেদ ভূঁইয়া (৬০)। তারা সবাই জিনারদি ইউনিয়নের গাবতলী গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগপত্রে বাদল মিয়া উল্লেখ করেন, অভিযুক্তদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে পণ্ডিতপাড়া-সাকুরগাঁট সংলগ্ন কাপড়ের হাটের টাকা বণ্টনকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তদের মধ্যে দুজন তার ভাতিজা সুজনকে মারধর করে আহত করেন। এ সময় তাদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একই দিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযুক্তরা গাবতলী এলাকায় বাদল মিয়াসহ আরও ছয়টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি কুপিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করেন। এ সময় বাড়ির ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলার সময় তাসিন (৮) নামে এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বাদল মিয়া, তার ভাতিজা রুবেলসহ সাতটি পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
বাদল মিয়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পলাশ থানা পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে পুলিশ তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।