পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ৩ নম্বর তেলিখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণপালা এলাকায় গত শনিবার মো. ইসমাইল শরীফ (৬০) হত্যার পর ১৬ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। লাশের গায়ে লেগে থাকা 'ঘুণ পোকার গুঁড়ো' থেকেই হত্যার মূল রহস্য বের করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, লাশের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, বিশেষ করে ডান কানের আঘাতের রক্তের সঙ্গে ঘুণ পোকার গুঁড়ো লেগে থাকার সূত্র ধরে তদন্ত শুরু হয়। সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের পোশাকে নিহতের রক্তের দাগ পাওয়া যায়, যা হত্যার মূল আসামিদের শনাক্ত করতে সহায়ক হয়।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ইসমাইলকে তার নিজ বসতঘরেই কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে হত্যার ঘটনা আড়াল করতে লাশ স্থানীয় কঁচা নদীর বেড়িবাঁধ এলাকায় ফেলে রাখা হয়। নিহতের ছোট ভাই জয়নাল শরীফ বাদী হয়ে নিহতের স্ত্রী শেফালী বেগম এবং তিন ছেলে রুবেল, রুমান ও রাসেল শরীফকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তাদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা কুঠারসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে। রবিবার রাতে ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি প্রথমে ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখা হয়। পরে বিভিন্ন আলামত মিলতে থাকায় হত্যাকাণ্ডের স্থান পরিষ্কার হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের সময় নিহতের ছোট ছেলে রাসেল শরীফ ভেঙে পড়েন এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বারান্দার খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা কুঠার। এছাড়া নিহতের স্ত্রী শেফালী বেগমের শরীরেও রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়। হত্যাকাণ্ডের পেছনে দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের বিষয়টি উঠে এসেছে।