বাংলাদেশ সরকার দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের জন্য গভীর সমুদ্রে সিংগেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ৪ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হলেও, চার বছরে প্রকল্পটির মেয়াদ চারবার বাড়ানো হয়েছে এবং ব্যয় বেড়েছে ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কোম্পানি নির্বাচনের ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক দরপত্র নিয়ে বিতর্ক চলছে, বিশেষ করে দরপত্র আহ্বানের সময় বর্তমান মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়। বিশ্বখ্যাত কয়েকটি কোম্পানি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করে প্রকল্পটির দরপত্র বাতিল করে নতুন করে আহ্বানের দাবি জানিয়েছে।
সিংগেল পয়েন্ট মুরিং হলো গভীর সমুদ্রে স্থাপিত একটি ব্যবস্থা, যা বড় ট্যাংকার থেকে অপরিশোধিত তেল বা জ্বালানি সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে তীরে স্থানান্তর করে। এটি সমুদ্রে ভাসমান বয়া হিসেবে কাজ করে, যা সময় ও অর্থের সাশ্রয় করে।
জানা গেছে, প্রকল্পটির জন্য ১১টি আন্তর্জাতিক কোম্পানি দরপত্র কিনলেও, মাত্র তিনটি কোম্পানি দরপত্র জমা দিয়েছে। নির্বাচনি প্রচারণার সময় ভ্রমণ সতর্কতা এবং অন এরাইভাল ভিসা সুবিধা স্থগিত থাকায় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে তাদের প্রযুক্তি দল পাঠাতে পারেনি।
দরপত্রের প্রি বিড মিটিংয়ে অংশ নেওয়া নেদারল্যান্ডের স্মিত ল্যামনালকো এবং মিশরের মেরিডাইভ চূড়ান্ত দরপত্রে অংশ নেয়নি। তাদের অভিযোগ, দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হলেও তা মানা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দরপত্র জমা দেওয়া তিনটি কোম্পানি, ইন্দোনেশিয়ার পার্তামিনা, চীনের সিপিসি এবং হিলন, বিভিন্ন অভিযোগের সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষ করে, পার্তামিনা নিজ দেশে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কেলেংকারিতে জড়িত।