বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে সম্প্রতি যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনা ঘটেছে। এই ত্রুটির কারণে যাত্রীদের জন্য বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
বহরের ১৯টি উড়োজাহাজের মধ্যে বোয়িং মডেলের বিমানগুলোতে অধিকতর কারিগরি ত্রুটি দেখা গেছে। সম্প্রতি, টরন্টো থেকে আসা ২৫৬ জন যাত্রী নিয়ে একটি ফ্লাইট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ইতালিতে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। যাত্রীদের ৪০ ঘণ্টা বিমানবন্দরে কাটাতে হয়। এর আগে, ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে মাত্র ২৮ দিনের মধ্যে আটটি বোয়িং উড়োজাহাজে বিভিন্ন যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যান্ত্রিক ত্রুটির পেছনে অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অবহেলা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নিয়ম লঙ্ঘন করে দ্রুত মেইনটেইন্যান্স লগ সই করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া, দূরবর্তী স্টেশনগুলিতে যন্ত্রাংশের অভাবও সমস্যা সৃষ্টি করছে।
বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যে, তারা একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক অডিট পরিচালনা করে উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ও কারিগরি মান যাচাই করুক। এছাড়া, বিদেশে খুচরা যন্ত্রাংশের ডিপো স্থাপন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
যদিও অন্যান্য কোম্পানির বিমানেও মাঝে মাঝে ত্রুটি দেখা দেয়, তবে উন্নত দেশগুলোতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা কম। তাই, বাংলাদেশ বিমানকে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষিত কর্মী বাহিনী নিয়ে কাজ করতে হবে।