কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে সোমবার (১০ আগস্ট) ভোরে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১১ জন ছাড়িয়েছে। ভূমিকম্পের ফলে অনেক ভবন ধসে পড়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকা পড়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অনেক মানুষ এবং আতঙ্কিত বাসিন্দারা নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পের কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কলম্বিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমারের কাছে, যার গভীরতা ছিল ১০৭ কিলোমিটার। দেশের বিভিন্ন বড় শহরেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চলীয় রিসারালদা প্রদেশে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে, যেখানে অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন গভর্নর হুয়ান দিয়েগো পাতিনো। কলম্বিয়ার অন্যতম বড় শহর ক্যালিওও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে অন্তত ৩০টি ভবন ধসে পড়েছে। শহরটির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হুয়ান কার্লোস অসোরিও বলেন, ‘ভবনটি পুরোপুরি ধসে পড়েছে। শব্দটি বোমা বিস্ফোরণের মতো মনে হয়েছিল। আমরা প্রতিবেশীরা সবাই মিলে কাজ করছি। মানবশৃঙ্খল তৈরি করে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছি।’
রিসারালদা প্রদেশের রাজধানী পেরেইরায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে একটি ভবনের ফাটল ধরা সম্মুখভাগ ধসে পড়তে দেখা গেছে। চোকো প্রদেশের গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্দোবা-কুরি জানিয়েছেন, রাজধানী কুইবদোতে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েল্লা দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিন পরই এ ভূমিকম্পে তার প্রশাসন বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।