মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. আনোয়ার ইব্রাহিম সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে মিয়ানমারের সম্মতির কথা বলেছেন। তিনি ৩০ জুলাই এক জাতীয় দৈনিকে এই তথ্য জানান। তবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানান, এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।
গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছে। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে প্রত্যাবাসনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, কারণ রোহিঙ্গারা নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়া ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় একটি পাইলট প্রকল্পের কথাও শোনা গিয়েছিল, কিন্তু সেটিও বাস্তবায়িত হয়নি।
রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি ক্রমাবনতিশীল হওয়ায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আরাকান আর্মি বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা এলাকাসহ উত্তর রাখাইনের বেশিরভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকার রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা দিতে কতটা সক্ষম, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মঞ্চে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কথা তুললেও, কোনো পরাশক্তি মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োগ করছে না। ফলে রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের জন্য অগ্রাধিকার নয়।