রাজধানীসহ দেশের সরকারি হাসপাতালগুলিতে সহস্রাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষানিরীক্ষার যন্ত্র বিকল হয়ে পড়েছে। এর ফলে রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে। যারা সরকারি হাসপাতালে স্বল্প ব্যয়ে চিকিৎসা পাওয়ার আশায় আসেন, তাদেরকেই শেষ পর্যন্ত বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে।
গতকাল দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি যন্ত্র নষ্ট হওয়ার পর তা মেরামত করতে মাসের পর মাস সময় লাগছে। উন্নত দেশগুলির স্বাস্থ্যব্যবস্থায় চিকিৎসা-যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ একটি পরিকল্পিত ব্যবস্থার অংশ, যেখানে নিয়মিত পরীক্ষা ও প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকে।
দেশের ৯৮ শতাংশ সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কিংবা বিশেষায়িত ইনস্টিটিউটে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ নেই। যন্ত্র মেরামতের নামে অনিয়ম ও অর্থ অপচয়ের অভিযোগও রয়েছে। রোগী যখন সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করাতে আসেন, তখন অচল যন্ত্র তার চিকিৎসা পাওয়ার পথকে কঠিন করে তোলে।
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা-যন্ত্র অচল থাকলে তার দায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। জনগণের করের টাকায় কেনা যন্ত্র বছরের পর বছর পড়ে থাকবে, রোগী বাহিরে পরীক্ষা করাতে বাধ্য হবেন, আর কারও জবাবদিহি থাকবে না—এটি চলতে পারে না।
বর্তমানে সংক্রামক রোগের প্রকোপ বাড়ছে, তাই হাসপাতালগুলিতে সুষ্ঠু চিকিৎসার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। হাসপাতাল শুধুমাত্র যন্ত্রপাতির স্তূপ নয়; এটি মানুষের জীবন রক্ষার প্রতিষ্ঠান।