রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অজ্ঞান পার্টির নতুন টার্গেট হয়ে উঠছেন অটোরিকশা চালকরা। গত এক বছরে তাদের খপ্পরে পড়ে সারা দেশে ৩২ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন চালকেরা, যাত্রীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করে তাদের আস্থা অর্জন করে পরে চেতনানাশক দ্রব্য প্রয়োগ করে অচেতন করা হচ্ছে।
রাজধানীতে গত আট মাসে তিন জন অটোরিকশা চালককে হত্যা করা হয়েছে। তিনটি ঘটনার ধরন ভিন্ন। একজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, একজনকে অচেতন করার পর হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে এবং আরেকজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে মাটিচাপা অবস্থায়।
গত ১০ মার্চ শাহজাহানপুরের শান্তিবাগ ভাঙারি গলি এলাকায় সিকান্দার মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ২৮ জুন দিদারুল ইসলাম নিখোঁজ হন এবং পরদিন অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পুলিশ তদন্তে জানায়, যাত্রী সেজে অটোরিকশায় উঠে চালককে অচেতন করে অটোরিকশা ছিনতাই করে একটি চক্র।
এছাড়া, জুলাইয়ে অলিউর রহমান নিখোঁজ হন এবং তার মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা অজ্ঞান পার্টির সদস্য বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অটোরিকশা চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা, সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো এবং সন্দেহজনক যাত্রীদের তথ্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। এছাড়া, চুরি বা ছিনতাই হওয়া রিকশা দ্রুত বিক্রি হয়ে যাওয়ার পথ বন্ধ করতে নজরদারি বাড়াতে হবে।