ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সম্পর্কের কার্যকারিতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।
নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে তার শৈশব ও কৈশোর কাটিয়েছেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য পরিচিত। তিনি একাধিক প্রেসিডেন্টের সমর্থন আদায় করে ইসরায়েলের পক্ষে রাজনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নেতানিয়াহুর গ্রহণযোগ্যতা কমে গেছে।
নেতানিয়াহু সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যা তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুজনের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে। নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সফলতা সম্পর্কে আশ্বস্ত করেছিলেন, কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে উদ্বেগ বাড়ছে। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের প্রতি তার নমনীয় মনোভাব এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে সমালোচনা চলছে। সাবেক রাষ্ট্রদূত অ্যালন পিঙ্কাস জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর সফরের মূল উদ্দেশ্য রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নেতানিয়াহুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা আগের মতো সহজ হবে না। আসন্ন নির্বাচনে এটি তার অন্যতম বড় রাজনৈতিক শক্তি, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি একমাত্র ভরসাযোগ্য নেতা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।