জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বহুতি গ্রামের আব্দুস সাত্তার (৫৬) কিডনি বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এক ব্যক্তিকে ১০ লাখ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। বকেয়া টাকা না পেয়ে ওই ব্যক্তি মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের মন্টু মিয়াকে কিডনি বিক্রির জন্য টার্গেট করা হয়। গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তাকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং পরে নেপালের একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার কিডনি নেওয়া হয়। দেশে ফেরার পর বাকি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাইলে সাত্তারসহ অন্য দালালরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
গত ১৩ জুন মন্টু মিয়া জয়পুরহাট আমলি আদালতে মামলা করেন। মামলায় সাত্তার ছাড়াও আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কালাইয়ে দীর্ঘদিন ধরে কিডনি বিক্রির চক্র সক্রিয় রয়েছে, যা দরিদ্র ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষকে টার্গেট করে।
প্রশাসনের নজরদারির কারণে গত কয়েক বছর এই কার্যক্রম কমে গেলেও গত এক বছর ধরে চক্রটি পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কালাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে কিডনি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন, ১৯৯৯-এর ৯ ধারায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ।
কালাই থানার ওসি (তদন্ত) দীপেন্দ্র নাথ সিংহ জানান, সাত্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।