কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের দমদমিয়া এলাকায় ১৪ নম্বর ব্রীজে সম্প্রতি ৫৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। দিনদুপুরে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় ডাকাতি, অপহরণ ও মাদক পাচারের জন্য পরিচিত স্থানটিকে ফের আলোচনায় নিয়ে এসেছে। ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও লুট হওয়া অর্থ উদ্ধার হয়নি, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, লুটের ঘটনায় আক্তার হোসেন, নজরুল ইসলাম, রোহিঙ্গা আয়াস, হোসেন আলী ও রূপবাহারকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া ২ লাখ ২৬ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান বলেন, লুট হওয়া অর্থের একটি অংশ অস্ত্র কেনার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
টেকনাফ আদালতের বিচারক নাজমুল হাসানের আদালতে রোহিঙ্গা আয়াস ও হোসেন আলী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন যে, পূর্বে ১১ জানুয়ারি একই প্রতিষ্ঠানের সেলস সুপারভাইজার মো. হানিফের ওপর হামলা চালিয়ে ১৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা লুট করা হয়েছিল, কিন্তু সেই ঘটনায় এখনও কেউ আটক হয়নি।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, ১৪ নম্বর ব্রিজ এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ করছে। তারা অপরাধ সংঘটনের পর পাহাড়ে আশ্রয় নেয়, যা তাদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ৫৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় মামলা চলছে এবং তদন্তে অগ্রগতি রয়েছে। তবে মামলার তদন্তের স্বার্থে কিছু তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে এই সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।