ইসলামি ঐতিহ্যে 'আখেরি চাহার শোম্বা' বিশেষ একটি দিন, যা হিজরি সনের সফর মাসের শেষ বুধবারকে নির্দেশ করে। মুসলমানদের কাছে দিনটি রসুলুল্লাহ (স.)-এর শেষ জীবনের অসুস্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি হিসেবে বিবেচিত।
হজরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনায়, রসুলুল্লাহ (স.) যখন অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন তিনি তার স্ত্রীদের কাছে অনুমতি চান যেন তাকে তার ঘরে সেবা করা হয়। তিনি সাতটি মশক পানি তার ওপর ঢালার পর কিছুটা সুস্থতা অনুভব করেন এবং মানুষের কাছে ফিরে যান।
রসুলুল্লাহ (স.)-এর অসুস্থতার সময় সাহাবিরা দান-সাদকা করে তার প্রতি তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করেন। হজরত আবু বকর (রা.) ৫ হাজার দিনার, হজরত উমর (রা.) ৭ হাজার দিনার, এবং হজরত ওসমান (রা.) ১০ হাজার দিনার দান করেন। এ থেকে বোঝা যায়, নবির প্রতি তাদের ভালোবাসা কত গভীর ছিল।
রসুলুল্লাহ (স.)-এর অসুস্থতার পেছনে একটি জাদুর ঘটনা ছিল। মদিনার ইহুদিরা নবিজিকে জাদু করার জন্য একটি ষড়যন্ত্র করে। তবে আল্লাহর নির্দেশে নবিজি সেই জাদুর কারণ জানতে পারেন এবং সুরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠের মাধ্যমে আরোগ্য লাভ করেন।
রসুলullah (স.)-এর জীবন আমাদের জন্য আদর্শ। তার সুন্নাহ অনুসরণ করে আমাদের জীবন গড়তে হবে এবং তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে হবে। এদিন আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় ও দরুদ শরিফ পাঠ করা উচিত।