মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব লাভের অধিকার সীমিত করার লক্ষ্যে দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সই হওয়া এই আদেশ দুটি সুপ্রিম কোর্টের প্রাথমিক প্রচেষ্টার পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রথম আদেশে বিদেশি কূটনীতিক ও আক্রমণকারী বাহিনীর সন্তানদের নাগরিকত্ব না দেওয়ার প্রচলিত ব্যতিক্রমী আইনের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এতে ‘সন্ত্রাসী’, অর্থ দিয়ে নাগরিকত্ব কেনা ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট কিছু মার্কিন ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দ্বিতীয় আদেশে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও পররাষ্ট্র দপ্তরকে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণ বা ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প ওভাল অফিস থেকে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জানান, তার প্রশাসন এখন পদক্ষেপে কিছুটা পরিবর্তন আনছে। এর আগে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই ট্রাম্প ১৪তম সংশোধনীর পুনঃব্যাখ্যার মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসী ও অস্থায়ী ভিসাধারীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব আটকানোর জন্য প্রথম আদেশ দেন, যা গত জুনে সর্বোচ্চ আদালত আইনি ভিত্তিহীন বলে বাতিল করে দেয়।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই নতুন নির্বাহী আদেশ দুটিও আদালতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে এবং বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ কিম্বার্লি ওয়েহল আল জাজিরাকে জানান, জনপ্রিয়তায় ধস নামায় কট্টর সমর্থক গোষ্ঠীকে পাশে পেতেই ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।