২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হয়। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এক দফার সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়।
২ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে দেশজুড়ে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনের সমন্বয়করা জানান, ঢাকার ডিবি কার্যালয়ে চাপ দিয়ে তাদের আগের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল।
৩ আগস্ট ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করা হয়। আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এ সরকারের কোনোভাবেই আর এক মিনিট ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই।’ একই দিন আন্দোলনকারীরা ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির ঘোষণা দেন, যা ৫ আগস্ট পালিত হয়।
৪ আগস্ট অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম দিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সরকারি নির্দেশে মোবাইলের ফোর-জি ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়। সহিংসতায় ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক মানুষ নিহত হন। এদিন সরকার সান্ধ্য আইন জারি করে।
৫ আগস্ট সকাল থেকেই কারফিউ উপেক্ষা করে হাজারো মানুষ ঢাকার দিকে আসতে শুরু করেন। পরে শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন।’ রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দল, তিন বাহিনীর প্রধান ও বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং জাতির উদ্দেশে ভাষণে জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে।