শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদীর বালুমহালে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে বেড়িবাঁধ, চরের বসতঘর ও ফসলি জমি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশেষ করে চরের কাছাকাছি এলাকার নদী থেকে গভীরভাবে বালু উত্তোলনের কারণে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ।
অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সীমানা ও শর্ত না মেনে শতাধিক ড্রেজার ও কাটার মেশিন ব্যবহার করে দিনরাত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে সামনের বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করার আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতে অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়ার কারণে তারা প্রতিবাদ করতে পারছেন না।
ভূমি মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি সড়ক পরিবহন ও সেতু সচিবসহ সরকারের ১৯ কর্মকর্তাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থার (মওসুস) পক্ষে আইনজীবী ড. মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া রোববার (২ আগস্ট) এই নোটিশ পাঠান।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, নিলামের শর্ত অনুযায়ী শুধুমাত্র স্তূপ থাকা বালু অপসারণের অনুমতি থাকলেও পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর গভীরতা ও পানির ধারণক্ষমতা বেড়ে গিয়ে নদীতীরে আঘাত হানছে।
নড়িয়া উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, গত বছর চরাত্রা চরের বালুর স্তূপ থেকে ১০ কোটি ঘনফুট বালু নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাসিন তাহান কনস্ট্রাকশন এই কাজটি পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ফরিদ উদ্দিন রয়েল মাঝি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তিনি দাবি করেছেন, তারা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ পরিচালনা করছেন।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম খান জানিয়েছেন, বালু উত্তোলনের কাজের তদারকির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গত ৬ জুলাই থেকে বালু উত্তোলনের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।