নিজস্ব প্রতিবেদক:
নরসিংদীর বাদুড়য়ারচর সরকার বাড়ি এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক দম্পতির ওপর হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং পরে মামলা তুলে নিতে প্রবাস থেকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মামলার বাদী মনি বেগম (স্বামী: জাহাঙ্গীর সরকার) অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ১৪ জুন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযুক্ত এরশাদ সরকার (পিতা: মৃত আব্দুল বারেক) ও তার স্ত্রী মোসাম্মৎ মাসুমা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের বসতবাড়িতে হামলা চালান।
অভিযোগে বলা হয়, হামলার সময় অভিযুক্তরা বাদী মনি বেগমকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে আহত করেন। একই সঙ্গে তার স্বামী জাহাঙ্গীর সরকারকে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে জাহাঙ্গীর সরকারের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, হামলার সময় আসামিরা তাদের বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং ঘরে থাকা নগদ ৩০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হয়ে ১৯ জুন ২০২৫ তারিখে নরসিংদীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন মনি বেগম। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে অভিযুক্ত এরশাদ সরকারকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। মামলার নম্বর ১৯(৬)/২০২৫।
ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর সরকারের অভিযোগ, পরে এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিচার-সালিশের আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্তকে জামিনে মুক্ত করার উদ্যোগ নেন। কিন্তু সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি না করে এরশাদ সরকার মালয়েশিয়ায় চলে যান।
জাহাঙ্গীর সরকার আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে প্রবাসে অবস্থান করেও এরশাদ সরকার বিভিন্ন মাধ্যমে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে হুমকি দিয়ে আসছেন। মামলা প্রত্যাহার না করলে নিজেদের ঘরবাড়িতে আগুন লাগিয়ে সেই ঘটনায় তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, বাদী মনি বেগম অভিযোগ করেন, আসামিপক্ষ প্রায়ই তার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
জাহাঙ্গীর সরকার ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মামলা প্রত্যাহার না করলে যে কোনো সময় আরও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। তারা ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এরশাদ সরকারের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি বিচারাধীন এবং অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।