নিজস্ব সংবাদদাতা, নরসিংদী:
নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ঘোড়াশাল পৌরসভার একটি সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী ঠিকাদার আলম মোল্লার তত্ত্বাবধানে নির্মাণকাজ পরিচালিত হওয়ায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে অভিযোগ পাওয়ার পর নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন পলাশ উপজেলা প্রকৌশলী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘোড়াশাল থেকে দড়িহাওলা পাড়া পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৮০০ মিটার কার্পেটিং সড়ক নির্মাণের জন্য দরপত্রে কাজ পায় চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনূছ এন্ড ব্রাদার্স। প্রকল্পটির টেন্ডার মূল্য প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পেলেও বাস্তবে স্থানীয় ঠিকাদার আলম মোল্লার মাধ্যমে নির্মাণকাজ পরিচালিত হচ্ছে। কাজ শুরুর পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিককে নিয়মিত সাইটে দেখা যায়নি বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। নির্মাণকাজে নিয়োজিত কয়েকজন শ্রমিক জানান, তারা আলম মোল্লার অধীনে কাজ করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে গুঁড়া হয়ে যাওয়া ও ভাঙাচোরা ইটের কংক্রিট ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাস্তার দুই পাশের এজিং নির্মাণেও নিম্নমানের ও আধলা ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব নির্মাণসামগ্রী সরেজমিনে পরীক্ষা করে কাজের মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিষয়টি পলাশ উপজেলা প্রকৌশলীর নজরে এলে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে পলাশ উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, “রাস্তার কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের খবর পেয়ে আমি কাজটি পরিদর্শন করেছি। কিছু নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী তাৎক্ষণিক সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমার অফিসের কাছে হওয়ায় প্রতিদিনই রাস্তার কাজ পরিদর্শন করছি।”
রাস্তার দুই পাশে এজিংয়ে ভাঙা ইট ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি দেখবেন। এমনটি হয়ে থাকলে নিম্নমানের অংশ নতুন করে নির্মাণ করানো হবে।
নরসিংদী জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশা বলেন, রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ নেই। সঠিকভাবে নির্মাণকাজ তদারকির জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী একজন ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ পরিচালিত হচ্ছে। ফলে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সংশ্লিষ্টরা যথাযথভাবে তদারকি করতে পারছেন কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আলম মোল্লা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে তাঁর প্রভাব রয়েছে। তিনি নিজেকে একজন মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নির্মাণকাজে অনিয়ম বা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনূছ এন্ড ব্রাদার্স এবং আলম মোল্লার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সড়কটির কাজের মান নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করা হোক। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ত্রুটিপূর্ণ কাজ পুনরায় করার দাবি জানিয়েছেন তারা।