২০২৭ সালের জন্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বিনা মূল্যের ৩০ কোটি ৬১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১ কপি পাঠ্যবই ছাপাতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ১৩৩টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে। তবে, পাঠ্যবই মুদ্রণে খরচ বেড়ে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ১০০ কোটি টাকা বেশি দর দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘মিনিস্ট্রি টিম’ সম্প্রতি ৫২টি ছাপাখানার পরিদর্শন করে ১ কোটি ফর্মা বাতিল করেছে। এসব ফর্মায় মিসিং, ডাবল ফর্মা, নিম্নমানের কালি ব্যবহারের মতো ত্রুটি ধরা পড়েছে। বইয়ের মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ছাপাখানাগুলোকে সতর্ক করেছে।
এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা জানান, মোল্লা প্রেস এন্ড পাবলিকেশন এবং অটো প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং ছাপাখানায় নিম্নমানের পাঠ্যবই পাওয়া গেছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই দুই ছাপাখানার মালিককে তলব করেন এবং নিম্নমানের কালি ব্যবহারের জন্য ব্যাখ্যা চান।
এদিকে, রেদওয়ানিয়া প্রেস এন্ড পাবলিকেশনে ও লেটার এন্ড কালার ছাপাখানায় নিম্নমানের বই জব্দ করা হয়েছে। এনসিটিবির সূত্র জানায়, অধিকাংশ ছাপাখানা দরপত্রের শর্ত মানছে না এবং নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার করছে।
বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান জানান, পাঠ্যবই ছাপানো নিয়ে সিন্ডিকেটের কারণে অনেক ছাপাখানার মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবির নির্দেশনায় পাঠ্যপুস্তকের গুণমান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।