মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা। আল্লাহ যুগে যুগে নবি-রাসুল পাঠিয়েছেন যাতে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। কোরআনে আল্লাহতায়ালা ন্যায় সাক্ষ্যদানের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন এবং মুমিনদের ন্যায়বিচার করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ফরজে কেফায়া। যদি মুসলিম সমাজের একটি অংশ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত থাকে, তবে অন্যদের দায়মুক্তি ঘটে। আল্লাহ নবি দাউদ (আ.)-কে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তিনি মানুষের মধ্যে যথাযথভাবে বিচার করুন।
আদর্শ বিচারকের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ইসলাম বেশ কিছু নির্দেশনা প্রদান করেছে। বিচারকের কাছে পৌঁছাতে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকা উচিত নয় এবং তিনি কোনো ধরনের উপহার গ্রহণ করতে পারবেন না। বিচারককে উভয় পক্ষের প্রতি সমতা নিশ্চিত করতে হবে এবং পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে।
ন্যায়পরায়ণ বিচারকের মর্যাদা ইসলাম অত্যন্ত উচ্চারণ করেছে। কোরআনে বিচারকাজকে নবি-রাসুলদের কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ ন্যায়নিষ্ঠ বিচারকদের ভালোবাসার কথা ঘোষণা করেছেন। বিচারককে ন্যায়বিচার করার সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে এবং ভুল হলে তা দোষণীয় নয়।
বিচারকের দায়িত্ব অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ইসলাম পক্ষপাতদুষ্ট বিচারকের পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করেছে। যে বিচারক সত্য জানার পরও অন্যায় ফয়সালা করে, তার জন্য কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। তাই বিচারক হিসেবে নিযুক্ত ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করা জরুরি।