সাম্প্রতিক সময়ে দেশে চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের সহিংসতা, সাইবার অপরাধ এবং পারিবারিক নৃশংসতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও অপরাধের এই প্রবণতা কমছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদকের বিস্তার এবং সুস্থ বিনোদনের অভাব তরুণদের বিপথগামী করছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অপরাধের সব সূচক ঊর্ধ্বমুখী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক মন্দা অপরাধ বৃদ্ধির প্রধান কারণ। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ সংকটে পড়েছে, যা অনেককে অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম জানান, মাদকাসক্ত তরুণরা পারিবারিক সহিংসতা ও মারাত্মক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সমাজে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করছে।
জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। দেশের বিচার ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের জামিনে মুক্তি পেতে সহায়তা করছে, ফলে তারা পুনরায় অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সামাজিক বৈষম্য ও মনস্তাত্ত্বিক হতাশা সমাজে অপরাধ বৃদ্ধির জন্য দায়ী। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা নামবিও-এর ২০২৬ সালের ক্রাইম ইনডেক্স অনুযায়ী, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অপরাধের দিক থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। অপরাধের এই প্রবণতা কমাতে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন।