নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ৪০৩ জন, যাদের অধিকাংশই বিদেশি পর্যটক। বুধবার দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও ভূমিধসকবলিত এলাকা থেকে ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে রসুয়ায় একটি, নুয়াকোটে ১১টি, ধাদিংয়ে ১৮টি, চিতওয়ানে ৩৩টি, গোর্খায় ১৯টি, তানাহুঁতে সাতটি এবং নওয়ালপুরে ১১টি রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চলছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হওয়ায় নিখোঁজ ও মৃতের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আকস্মিক বন্যায় স্বজন হারানোর কথা জানিয়েছেন। নুয়াকোট জেলার বাসিন্দা কল্পনা মাল্লা জানান, তার পরিবারের সদস্যরা বন্যার পানিতে ভেসে গেছেন। তিনি বলেন, "বন্যা সবকিছু কেড়ে নিয়েছে।" তার ছেলে সুগাম মাল্লা জানান, তিনি মায়ের হাত ধরে নিরাপদে গেছেন, কিন্তু বোনের ফোন বন্ধ রয়েছে এবং তিনি আশঙ্কা করছেন যে বোন হয়তো বন্যার পানিতে ভেসে গেছেন।
রাসুয়া জেলার স্যাফ্রু বেসি গ্রামের ট্রেকিং গাইড সোনাম দর্জি জানান, তার গ্রামে সকাল ৯টার দিকে আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। তিনি বলেন, "আমার বাড়ি ধসে গেছে।" সোনাম বন্যাকে ‘হঠাৎ ও ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেন এবং জানান, অনেক মানুষ এখন ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে রয়েছেন।