সরকারি পদে থেকেও ‘প্রেস কার্ড’ ব্যবহারের অভিযোগ, পলাশে ইউপি সচিবকে ঘিরে প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী:
সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করেও সাংবাদিক পরিচয়ে ‘প্রেস আইডি কার্ড’ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. আলতাব হোসেনের বিরুদ্ধে। সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না—এ প্রশ্নে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা আলোচনা।
অভিযোগ রয়েছে, চরসিন্দুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনরত মো. আলতাব হোসেন নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিচ্ছেন এবং একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের ‘Executive Board’-এর সদস্য হিসেবে প্রেস আইডি কার্ড ব্যবহার করছেন।
এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—একজন সরকারি কর্মচারী একই সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে প্রেস পরিচয় ব্যবহার করতে পারেন কি না এবং এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন রয়েছে কি না।
সরকারি বিধিমালায় কী আছে?
সরকারি কর্মচারীদের আচরণ ও শৃঙ্খলার বিষয়ে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এ সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩০ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীর আচরণ ও শৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট বিষয় বিধি ও সরকারি আদেশ দ্বারা নির্ধারিত হয়।
বিশেষ করে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর বিধি ২১-এ বলা হয়েছে, সরকারের পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো সংবাদপত্র বা সাময়িকীর মালিকানা গ্রহণ, পরিচালনা অথবা সম্পাদনা কিংবা ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
এ ছাড়া সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমে লেখা, সম্প্রচারসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও বিধি ২২-এ পূর্বানুমতি ও বিধিনিষেধের বিষয় উল্লেখ রয়েছে। সরকারি দপ্তরগুলোতেও এ বিধি যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুমোদন রয়েছে কি না—এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালার কোনো বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা সরকারি চাকরির শৃঙ্খলাজনিত বিষয়ের আওতায় আসতে পারে। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩১ অনুযায়ী সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা রুজু ও পরিচালনা করতে পারে।
স
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিয়ে কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে আগাম সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত নথিপত্র যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা। অভিযোগ সত্য হলে প্রচলিত সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ সত্য না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি উঠেছে।
এদিকে, মো. আলতাব হোসেনের বক্তব্য জানা সম্ভব হলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
সরকারি পদ ও সাংবাদিক পরিচয়—দুটি আলাদা দায়িত্বের মধ্যে যেন কোনো ধরনের স্বার্থের সংঘাত বা ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আইনি সূত্র: সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর বিধি ২১ ও ২২ এবং সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩০ ও ৩১।