কেনিয়ার অ্যাম্বোসেলি জাতীয় উদ্যানের পার্শ্ববর্তী এলাকায় ১৫টি হাতির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে টমেটো খামারে ব্যবহৃত কীটনাশকের বিষক্রিয়াকে দায়ী করা হলেও, স্থানীয় কৃষক ও পরিবেশ সংরক্ষণবিদরা সরকারি এই দাবি মানতে নারাজ।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস (কেডব্লিউএস) জানিয়েছে, গত ২৪ জুন থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে মারা যাওয়া হাতিগুলোর শরীরে পক্ষাঘাতের লক্ষণ দেখা গেছে। কেডব্লিউএস-এর প্রধান পশুচিকিৎসক ডক্টর আইজ্যাক লেকোলুল জানান, মৃত হাতিগুলোর পাকস্থলী থেকে নেওয়া নমুনায় মারাত্মক রাসায়নিক সায়ানাইডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
ডক্টর লেকোলুল বলেন, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বিষ প্রয়োগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না, তবে এই পর্যায়ে হাতিগুলোর মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা সম্ভব নয়। তিনি জানান, টমেটো ক্ষেতে ব্যবহৃত কীটনাশকের মাধ্যমে হাতিগুলো বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে আসতে পারে।
গবেষণা সংস্থা ‘রুট টু ফুড’-এর ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কেনিয়ায় নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও বিপজ্জনক কৃষি রাসায়নিক পাচার হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সরকারি তদন্তের ওপর প্রশ্ন তুলছেন, কেননা মৃত হাতিগুলোর মধ্যে মাত্র একটি পুরুষ এবং বাকিগুলো ছিল স্ত্রী ও ছোট হাতি, যা হাতির স্বাভাবিক আচরণের সঙ্গে মেলে না।
সংরক্ষণ সংস্থা ‘সেভ দ্য এলিফ্যান্টস’-এর প্রধান নির্বাহী ফ্র্যাঙ্ক পোপ জানান, অপরিকল্পিত ভূমি ব্যবহারের কারণে হাতিরা ফসলি জমিতে হানা দিচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য বিপুল আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। হাতিগুলোর মৃত্যুর আসল কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে অবশিষ্ট হাতি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।