গ্রীসের রাজধানী এথেন্সের উত্তর-পশ্চিমে দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় দুই অগ্নিনির্বাপক হেলিকপ্টারের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন গ্রীক এবং একজন ডেনিশ নাগরিক রয়েছেন। অন্য হেলিকপ্টারটিতে থাকা গ্রীক ও ব্রিটিশ নাগরিক বেঁচে গেছেন।
গ্রীক ফায়ার সার্ভিস জানায়, অ্যাটিকা অঞ্চলের পসাথা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সংবাদ সূত্রে জানা যায়, পবনা চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংযোগ লাইনের স্পার্ক থেকে দাবানলের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় অবহেলার অভিযোগে দুই গ্রীক নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরেক সন্দেহভাজন পলাতক রয়েছে।
দাবানল এথেন্সের উত্তর-পশ্চিমে ১০০টিরও বেশি বাড়ি ধ্বংস করেছে এবং এটি মেগারা শহরের দিকে অগ্রসর হওয়ায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পর্যটন দ্বীপ কেফালোনিয়াতেও নতুন করে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রীসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোটাকিস জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক শক্তি ও আবহাওয়ার তীব্রতা মাঝে মাঝে মানুষের সব পরিকল্পনা ও সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যায়।
ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপদাহ ও খরা পরিস্থিতির মধ্যে অন্যান্য দেশে দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে। ফরাসি সংবাদ মাধ্যম বিএফএম টিভির খবরে বলা হয়েছে, বাতাসের দিক পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সে দাবানল দুর্গম বনাঞ্চলের দিকে ছড়াচ্ছে।
স্পেনের কাসেরেস প্রদেশে বনাঞ্চলের আগুনে ৮০০ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। খরার কারণে ড্যানিউব ও রাইন নদীর পানি ঐতিহাসিক সর্বনিম্নে নেমে আসায় ইউরোপের সার্বিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।