আজ মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার ছয় বছর পূর্ণ হলো। তবে আইনি প্রক্রিয়া ও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় দণ্ডপ্রাপ্ত ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যায়নি। বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে রায় ঘোষণার পরও সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় মামলার অগ্রগতি আটকে আছে। ফলে পরিবারের অপেক্ষা এবং জনমনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।
২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের শামলাপুর পুলিশি তল্লাশিচৌকিতে সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী সিনহাকে লক্ষ্য করে ৪ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ার পর সিনহা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর ওসি প্রদীপ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সিনহার ওপর নির্মমভাবে আক্রমণ করেন। ঘটনার পর পুলিশ এটি ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বলে প্রচার করার চেষ্টা করে।
২০২০ সালের ৫ আগস্ট নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে র্যাব। ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি আদালত প্রধান আসামি লিয়াকত আলী ও সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
হাইকোর্টের রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দাখিল করলেও তা এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পর্যায়ে রয়েছে। কক্সবাজার জজ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আকরামুল হুদা জানান, আপিল বিভাগের শুনানি এবং চূড়ান্ত রায় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো আসামিরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যায় না।
মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বলেন, নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টে তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন, কিন্তু আদেশ কার্যকর না হওয়ায় তারা গভীর ক্ষোভ ও হতাশায় রয়েছেন। প্রশাসনিক তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রদীপ কুমার দাশ টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকাকালীন ২২ মাসে ২০৪ জনকে বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যা করেছিলেন।