নাটোরের গুরুদাসপুরে ভুল অস্ত্রোপচারের ফলে কৃষক ওসমান গণি (৫৫) মারা গেছেন। একই চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে পঙ্গু হওয়ার পথে রয়েছেন আরও তিনজন নারী-পুরুষ। তাদের মধ্যে রয়েছে নাজিমুদ্দিন, জহুরা বেগম এবং আনোয়ারা বেগম।
ওসমান গণি জুন মাসের শুরুর দিকে কাঁধের টিউমার অপারেশনের জন্য জাহেদা ক্লিনিকে ভর্তি হন। অপারেশনের আধাঘণ্টা পর চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম ক্লিনিকের বাইরে এসে জানান, রোগী জ্ঞান হারিয়েছেন। পরে জানা যায়, তিনি অপারেশন কক্ষে মারা গেছেন। নিহতের ভাই আলম খান চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।
নাজিমুদ্দিন (৬০) মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে জাহিদুলের কাছে অস্ত্রোপচার করান। অপারেশনের পাঁচদিন পর থেকে তার পায়ের ক্ষতস্থানে পুঁজ বের হতে শুরু করে। বর্তমানে তিনি গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন এবং পা হারানোর ঝুঁকিতে আছেন।
অন্যদিকে, জহুরা বেগম (৬০) বাম হাতের অস্ত্রোপচারের পর ইনফেকশনের শিকার হয়েছেন। তিনি জানান, চিকিৎসার জন্য প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। তার স্বামী আবুল বাশার অভিযোগ করেছেন যে, চিকিৎসকের কারণে তার স্ত্রী পঙ্গুত্ববরণ করেছেন।
এছাড়া, আনোয়ারা বেগমের অস্ত্রোপচারের সময় ড্রিল মেশিনের ফলাটি তার পায়ের ভেতরে ঢুকে যায়। তিনি জানান, অস্ত্রোপচারের পর থেকে তার পা থেকে পুঁজ বের হচ্ছে এবং চিকিৎসক জাহিদুল এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
নাটোরের সিভিল সার্জন চিকিৎসক মশিউর রহমান বলেন, তিনি এই ঘটনার বিষয়ে অবগত নন। ভুক্তভোগীরা চিকিৎসকের বিচার দাবি করেছেন।