• সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
মনোহরদীতে ৩০০ লিটার চোলাইমদ উদ্ধার, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার ইয়াবাসহ নারী আটকের পর যুবককে থানায় ৬ ঘণ্টা রাখার অভিযোগ গাজায় চলমান নৃশংসতার বিরুদ্ধে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যের সমালোচনা ফরিদপুরে সন্ধ্যার পর ২০০ মিটার রাস্তায় ইয়াবার বাজারের অভিযোগ সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, মোট ১৬৪ জনের মৃত্যু বিজিবিতে সিপাহী পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে জেলেনস্কিকে অনুরোধ ট্রাম্পের দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত মুসলিম আলেমদের এআই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ভারত প্রসঙ্গে মন্তব্য: নিজেদের দেশের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান

নরসিংদীতে মাদরাসা শিক্ষকের প্রহারে ৭ বছরের শিশু রক্তাক্ত, হাসপাতালে ভর্তি—অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি।

আর এ লায়ন সরকার / ৫৪৩ Time View
Update : শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬

৭৩২

 

নরসিংদীতে মাদরাসা শিক্ষকের প্রহারে ৭ বছরের শিশু রক্তাক্ত, হাসপাতালে ভর্তি—অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি।

আর এ লায়ন সরকার,নরসিংদী।

নরসিংদীতে এক মাদরাসা শিক্ষকের নির্মম প্রহারে ৭ বছর বয়সী এক শিশু গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে নরসিংদী শহরের ভেলানগর জেলখানা মোড় এলাকায় অবস্থিত মাদরাসাতুল আবরার এরাবিয়া মাদরাসাতে। অভিযুক্ত শিক্ষক নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিশুটিকে বেত দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আহত শিশুটির নাম মুজাহিদ (৭)। সে ওই মাদরাসার শিক্ষার্থী। শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, গোসল করতে অনীহা প্রকাশ করায় মাদরাসার শিক্ষক নাজমুল ইসলাম তাকে বেত দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। মারধরের একপর্যায়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর আঘাতের চিহ্ন পড়ে এবং চামড়া ফেটে রক্ত বের হতে থাকে।
শিশুটি আরও অভিযোগ করে জানায়, ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিশুটির বাবা নিয়মিত খোঁজ নিতে মাদরাসায় গেলে তার শরীরে অস্বাভাবিক দাগ দেখতে পান। পরে বিস্তারিত জানতে চাইলে শিশুটি কান্নাজড়িত কণ্ঠে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়। পরিবারের সদস্যরা তার শরীরজুড়ে বেতের দাগ ও রক্তাক্ত ক্ষত দেখতে পেয়ে দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করান। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আহত শিশুটির চাচা বলেন,
“এতদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদরাসা শিক্ষকদের নির্যাতনের খবর দেখেছি, কিন্তু এবার নিজের পরিবারের শিশুই তার শিকার হয়েছে। কিছু শিক্ষকের এমন আচরণের কারণে পুরো আলেম সমাজের বদনাম হয়। একটি ছোট শিশুকে এভাবে নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
ঘটনার পর স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলেন, একটি শিশুর গোসল না করার মতো সামান্য ঘটনায় এভাবে নির্মম শাস্তি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি অভিভাবকদের আস্থা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর মাদরাসা এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেক অভিভাবক এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক নাজমুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনা প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd