নরসিংদীতে লাইসেন্সবিহীন টায়ার পুড়িয়ে তেল উৎপাদন-বিষাক্ত ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণ,জনস্বাস্থ্যে গভীর হুমকি।
নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি।
নরসিংদীর শালিধা এলাকায় আবাসিক জনগোষ্ঠীর পাশে গড়ে উঠেছে লাইসেন্সবিহীন পুরোনো টায়ার পোড়ানোর কারখানা ‘ডায়নামিক পাইরোল পাইবোলাইসিস ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেড’। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা উন্মুক্ত স্থানে শত শত টন টায়ার জ্বালিয়ে বিটুমিন ও তেল উৎপাদন করায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে কালো ধোঁয়া ও তীব্র দুর্গন্ধ। এতে স্থানীয় পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্যে বিপদের আশঙ্কা বাড়ছে।
ধোঁয়া ও গন্ধে অতিষ্ট এলাকাবাসী_কারখানা সংলগ্ন আমানত শাহ উইভিং প্রসেসিং লিমিটেড–এর শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা, মাথাব্যথাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন।
অমানত শাহ গ্রুপের স্বত্বাধিকারী মো. হেলাল মিয়া জানান—২০২৩ সালে অভিযোগের পর পরিবেশ অধিদপ্তর ফ্যাক্টরিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করে, কিন্তু মালিক আরও বেপরোয়া হয়ে এখন আগের চেয়েও বেশি টায়ার জ্বালাচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর এ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যাতে আশপাশের মানুষের বড় ধরনের ক্ষতি হয়।
মালিকের চ্যালেঞ্জিং বক্তব্য_প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী বাবুল চন্দ্র বর্মন বলে—যা খুশি লিখেন, আমার কিছু যায় আসে না। আমার ফ্যাক্টরি বন্ধ হবে না। লাইসেন্স ছাড়াও ফ্যাক্টরি চলবে।”
জেলা প্রশাসক: ‘ক্ষতি হয় এমন কাজ চলতে দেওয়া হবে না’নরসিংদী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন বলেন—লাইসেন্স ছাড়া এ ধরনের প্রতিষ্ঠান চলতে দেওয়া যাবে না। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি_নরসিংদী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. বজলুল হুদা জানান—
“ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফ্যাক্টরি থেকে সংগৃহীত নমুনা ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি—জনস্বাস্থ্য রক্ষা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কোটি টাকার সম্পদ নিরাপদ রাখতে জরুরি ভিত্তিতে কারখানাটি বন্ধ অথবা স্থানান্তর করা প্রয়োজন।