নরসিংদীতে প্রবাসী তামান্নাসহ পাঁচ ক্রেতার জমি দখলের পাঁয়তারা—মামলার জালে হয়রানির অভিযোগ
নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি।
নরসিংদীতে ইতালি প্রবাসী তামান্না আক্তারসহ পাঁচজনের যৌথভাবে ক্রয় করা জমি দখলে নিতে স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। জমির মালিকদের দাবি—২০০৮ সালে নরসিংদী শহরের বাগদী মৌজায় আহমদ আলীর ছেলে আহসান উল্লাহর কাছ থেকে দলিলমূলে ৩৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন শিক্ষক আতিকুর রহমান, আলমগীর হোসেন, রুমা বেগম ও প্রবাসী তামান্না। জমিটি ক্রয়ের পর দলিল, নামজারি ও জমাভাগসহ সব সরকারি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয় এবং নিয়মিত খাজনাও পরিশোধ করা হচ্ছে।
জমিটি ক্রয়ের সময় ডোবা অবস্থায় থাকলেও পরবর্তীতে নিজস্ব অর্থায়নে তা মাটি ভরাট করে চারদিকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেন মালিকরা। তবে জমিতে সরাসরি বসবাস না করায় একটি দখলদার চক্র তাদের ওপর নজর দেয়—এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তাদের দাবি, রাতের অন্ধকারে ওই চক্রটি জমিতে একটি একচালা ঘর নির্মাণ করে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। শুধু তাই নয়, একই চক্র জমির প্রকৃত মালিকদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানিতে মেতে উঠেছে।
জমির মালিক আলমগীর হোসেন, যিনি নরসিংদী শহরের একটি হাই স্কুলের শিক্ষক, জানান—এ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করা হয়েছে এবং চারটিতেই আদালত তাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তারপরও দখলদার চক্র ক্ষান্ত হচ্ছে না। সম্প্রতি তারা আবারো অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কার্যালয়ে অভিযোগ করেন, যার প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ—তদন্তকারী সার্ভেয়ার স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহলের প্রভাবে ভুল তথ্য প্রদান করেছেন।
ইতালি প্রবাসী তামান্না কান্নাজড়িত কণ্ঠে মোবাইল ফোনে বলেন, “ইতালিতে অনেক কষ্ট করে স্বামী-সন্তান নিয়ে বাস করছি, ভবিষ্যতে দেশে বাড়ি করব বলে এই জমি কিনেছি। পাঁচজন মিলে টাকা দিয়ে জমি ভরাট, দেয়াল নির্মাণ করেছি। এখন কিছু লোক অবৈধভাবে আমাদের জমি দখল করতে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। আমরা প্রবাসে থেকে কি শুধু টাকা পাঠাবো? আইনি সুরক্ষা কি আমাদের থাকবে না?”
শিক্ষক আতিকুর রহমান বলেন, “আমরা কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে জমিটি কিনেছি। এখন এই সম্বলটুকু কি দুষ্কৃতিকারীরা নিয়ে যাবে? প্রশাসন কি বিষয়টি দেখবে না?” তিনি ন্যায়বিচারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে নরসিংদী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিনথিয়া হোসেন বলেন, জমিজটিলতার মতো বিষয় আদালতের নির্দেশে তদন্ত করা হয়। আদালত কাগজপত্র পর্যালোচনা করেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।
জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদা আক্তারের মন্তব্য জানা যায়নি। সারাদিন চেষ্টা করেও তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি।
এদিকে প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারে জমা দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রবাসীদের জমি দখল, মামলা দিয়ে হয়রানি ও পরিবারের সদস্যদের ঝুঁকিতে ফেলার ঘটনা অগ্রহণযোগ্য। কেন্দ্রটি অভিযোগটি প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছে, সেখান থেকে বিষয়টি তদন্ত করে জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পত্র দেওয়া হবে।
নরসিংদীতে প্রবাসী মালিকদের জমি দখলের চেষ্টা ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির এ ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান।