“দেশের টেকসই সংস্কারের পথে এগুতে আগে সকল নাগরিকদের চরিত্রের সংশোধন বা সংস্কারের প্রয়োজন।”
লেখক- বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক এবং কলামিস্ট এ্যাড.মোঃ মনিরুজ্জামান মোল্লা।
👉বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের দেশের যে পরিস্হিতি চলছে তাতে দূ’চার কলম না লিখে পারছি না।
⚡”সুশিক্ষিত জনই গুণী জন।গুণীজন সর্বদাই সচ্চরিত্র বান হন।তাঁরা কখনো নিজ চরিত্রকে জলাঞ্জলি দিয়ে কারো ক্ষতি করতে পারেন না।তাঁরা নিজের জন্য যতটুকু ভাবেন তারচেয়ে পরের জন্য বেশি ভাবেন।”⚡
তাই মানুষের চরিত্রের সংশোধন বা সংস্কার না করতে পারলে এদেশের কখনো কোন উন্নতি হবে না। মানুষের মৌলিক অধিকার,নিরাপত্তা বিধান,ঘুষ ও দূর্নীতি রোধ করা, যে কোন হয়রানী বন্ধ করা,এ সব কোন কিছুই ঠিক করতে পারবে না যতক্ষন নিজ নিজ চরিত্রের সংশোধন বা সংস্কার না হবে।
মানুষ যখন কর্মক্ষম হয়, রাষ্ট্রীয় কোন দায়িত্ব গ্রহণ করে বা কোন চাকরিতে নিয়োজিত হয় ঠিক তখন থেকেই সে কোন না কোন ভাবে দূর্নীতির চর্চা শুরু করে। আর বিশাল অর্থ বৈভবের মালিক বনে যায়।এর মূল কারণ হলো নিজ চরিত্রকে বিসর্জন দেওয়া। মন্দকে বা হারামকে আঁকড়িয়ে ধরা এবং নিজের মনুষ্যত্ব বোধ কে জলাঞ্জলী দেওয়া।
রক্তাক্ত সংগ্রাম,আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ২০২৪ এর ৫ আগষ্ট বাংলাদেশের নব যাত্রার সূচনা হয়।সকলের মনেই প্রশান্তির আলো জ্বলে উঠে। আবাল বৃদ্ধা বণিতা সকলেরই চিন্তা চেতনা পুরাতন সকল গ্লানিকে মুছে দিয়ে এক নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।প্রগতিশীল কর্মকান্ডে সুখ,শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠবে বাংলাদেশ।
কিন্তু হায়!
কয়েকদিনের মধ্যেই সব বিপরীত হতে শুরু করলো।দেশের সবচেয়ে সৎ, বিশুদ্ধ,শিক্ষিত,গুণী, অভিজ্ঞ, নির্ভেজাল,দক্ষ ও নির্ভরশীল ব্যক্তিগনের সমন্বয়ে অন্তর্বর্তী কালীন সরকার গঠিত হলো।উপদেষ্টা মহোদয়গণ শপথ নিয়ে রাষ্ট্রীয় গুরু দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নিলো। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটবে সকল জনগনের আন্তরিক সহমর্মিতায় এদেশের মাটিতে, এমন নীতিতে উপদেষ্টা মন্ডলীগণ রাষ্ট্র ও দেশ পরিচালনা করবেন সে আশায় দেশবাসী অপেক্ষায় রইলেন।
কিন্তু এসবের কোনো কিছুই হলো না।অশরীরী প্রেতাত্মাগনের অপকর্মের উদ্যত আচরণে “যেই কদু সেই লাউ “এমন অবস্থাই দেশ রয়ে গেলো।বরং রাষ্ট্র যন্ত্রের ঘাপটি মেরে থাকা সেই সকল দূর্নীতিবাজরা আরো বেশি সক্রিয়, হিংস্র ও বেপরোয়া হয়ে গেলো।
আমি আমার বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে মানুষের মাঝে অসম আচরণের বিভৎসতা খুব গভীরভাবে উপলব্ধি করেছি।নীতিহীনদের অন্যায় ভাবে দাপিয়ে চলার ঘৃণ্য কৌশল পর্যবেক্ষণ করেছি। আইন পেশায় থেকে মানুষকে সেবা দানের ক্ষেত্রে অনেকটাই হিমশিম খাচ্ছি কারণে অকারণে।দেশের মানুষের মাঝে নৈতিকতার কোন পরিবর্তন আসেনি। দূর্নীতির শেকড় অনেক গভীরে পৌঁছে গেছে। এর মূলোৎপাটন করা খুবই দূঃসাধ্য ব্যাপার।
তাই বড় আক্ষেপ লাগে হৃদয়ে এই জন্য যে,কেমন দেশের মানুষ হলাম আমরা।চোখের সামনে লক্ষ কোটি ছাত্র জনতা আন্দোলন করে একটা সুশীল সমাজ,দেশ ও রাষ্ট্র গঠনের জন্য রক্ত দিয়ে শহীদ হয়ে,পঙ্গু হয়ে,আহত হয়ে,অন্ধ ও বিধবা হয়ে,সন্তান হারা হয়ে,কি পেলাম আমরা!
যা পেলাম তা এখন লজ্জা ও কালিমায় ঢেকে যাচ্ছে। মানবতার তরী ডুবে যাচ্ছে। খুন খারাবী ধর্ষণ,অত্যাচার,অবিচার,
চাঁদাবাজি,ছিনতাই,চুরি,ডাকাতি,অন্যায় ও অবৈধ কাজে লিপ্ত হওয়া,সুদ,ঘুষ খাওয়া,অপরাধ করা,কারো উপর জুলুম করা,
ভূমি দস্যূতা এবং আইন শৃঙ্খলার অবনতি ইত্যাদি ক্রমে ক্রমেই বেড়ে চলছে ।
তাই দ্বিধাহীন চিত্তে একজন লেখক হিসেবে বলতেছি যে,
যতোক্ষণ পর্যন্ত আমাদের নৈতিক চরিত্র ঠিক না হবে,বা আমাদের নিজ নিজ চরিত্রের সংস্কার না হবে ততোক্ষণ পর্যন্ত সংস্কারের পথে এগুতে যাওয়া বা সংস্কার করা মানেই হলো কামারের দোকানে কোরান পাঠ করারই নামান্তর। কিছুতেই এদেশের জনগণের কল্যাণ বা দেশের কোন মঙ্গল বয়ে আসবে না।বরংচ নিঁখুত ভালো ও দায়িত্বশীল উপদেষ্টা মণ্ডলীদের ঘাড়ে অপবাদের ঘৃণ্য কালিমা লেপন করে উনাদের মান সম্মান ইজ্জত নষ্ট করে দোষী বানিয়ে ডাষ্টবিনে সোপর্দ করার হঠকারিতায় নিয়োজিত লোকজনের বিজয় নিশ্চিত হবে।💥