• সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
বাংলাদেশে যত উন্নয়ন সব কিছুই করেছেন শহীদ জিয়া -ডা. জাহিদ হোসেন যশোর জেনারেল হাসপাতালে আসা রোগী টার্গেট ৫০০ মিটারে ২২বেসরকারি হসপিটাল-ক্লিনিক আশ্বাসে কাটলো অচলাবস্থা: বেনাপোল বন্দরে শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত    শার্শায় প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, ৩ জন আটক নরসিংদীতে ক্লু-লেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার ২ নরসিংদীতে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে কলেজছাত্রের মৃত্যু সুনামগঞ্জের নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট জেলা শাখার নেতৃবৃন্দরা। যশোরের শার্শায় জনবান্ধব বাজেট পেশ করায় শুভেচ্ছা মিছিল দিনাজপুরে প্রয়াত মন্ত্রী খুরশীদ জাহান হক এর ২০ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত ফতুল্লায় পরিত্যক্ত অবস্থায় প্রাণঘাতী ‘পেন গান’ ও খালি কার্তুজ উদ্ধার

আশ্বাসে কাটলো অচলাবস্থা: বেনাপোল বন্দরে শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত   

মনির হোসেন বেনাপোল প্রতিনিধি / ২৩ Time View
Update : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

৩৬

আশ্বাসে কাটলো অচলাবস্থা: বেনাপোল বন্দরে শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত

 

মনির হোসেন,বেনাপোল প্রতিনিধি :-

ন্যায্য মজুরির দাবিতে বেনাপোল স্থলবন্দরে ৮৯১ ও ৯২৫ হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ার ইতিবাচক আশ্বাসের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেন শ্রমিক নেতারা।

 

এর ফলে দেশের বৃহত্তম এই স্থলবন্দরে আবারও পুরোদমে শুরু হয়েছে পণ্য খালাস ও বাণিজ্য কার্যক্রম।

 

​দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য মজুরি বৃদ্ধি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন বেনাপোল স্থলবন্দরের হ্যান্ডলিং শ্রমিকেরা। তারই ধারাবাহিকতায় রবিবার(১৪ জুন) সকাল ৯ টার দিকে ‘শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি’ ব্যানারে বন্দর এলাকার সাধারণ শ্রমিকেরা একত্রিত হন।

 

​আন্দোলন চলাকালে হাজার হাজার শ্রমিক লাল পোশাক পরে বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ও আশেপাশের রাস্তায় অবস্থান নেন। বিশাল এই শ্রমিক সমাবেশ বন্দরের আমদানি-রপ্তানি ও পণ্য খালাস প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্থবির করে দেয়।

 

আন্দোলনরত শ্রমিক নেতা ৯২৫ এর সাধারণ সম্পাদক মো.সহিদ আলী অভিযোগ করে বলেন, ২০১২ সালে বেনাপোল পোর্ট কর্তৃপক্ষ আমদানিকারকদের কাছ থেকে প্রতি টন পণ্য হ্যান্ডলিং বাবদ ৩৩ টাকা আদায় করলেও শ্রমিকরা পেতেন মাত্র ১৮ টাকা। বর্তমানে ২০২৬ সালে সেই হ্যান্ডলিং চার্জ বেড়ে ৭৮ টাকায় উন্নীত হলেও শ্রমিকদের মজুরি এখনো ১৮ টাকাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, প্রতি টন পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে ম্যানুয়াল শ্রমিকদের মজুরি ৩৫ টাকা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ৩০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

 

এ সময় ৮৯১ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাসুদুর রহমান রিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক লিটন হোসেন, ৯২৫ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তবিবুর রহমান তার পাশে ছিলেন।

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হন বেনাপোল স্থল বন্দরের পরিচালক মো. শামীম হোসেন(উপসচিব), বেনাপোল সি অ্যান্ড এফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।

 

পরে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ শ্রমিকদের দাবিগুলো এক মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। এ সময় তারা আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়ে জানান, শ্রমিকদের দাবি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

বাংলাদেশ সরকারের বাজেট প্রণয়নের চলমান সময় বিবেচনায় নিয়ে এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শ্রমিকরা তাদের কর্মসূচি এক মাসের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন।

 

তবে শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হলে এক মাস পর পুনরায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল ধরনের কাজকর্ম বন্ধ রেখে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

 

শ্রমিকদের আকস্মিক কর্মবিরতির কারণে বন্দরে শত শত ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে এবং কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির শঙ্কা তৈরি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষপে নেয় প্রশাসন।

 

স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করেন। আলোচনায় শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়। ​ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এই আশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এবং দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে শ্রমিক ইউনিয়নের (৮৯১ ও ৯২৫) নেতৃবৃন্দ যৌথভাবে অনির্দিষ্টকালের এই কর্মবিরতি কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেন।

​শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণার সাথে সাথেই বেনাপোল বন্দরে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ইতিমধ্যে বন্দর শেড ও ইয়ার্ডগুলোতে ক্রেন, ফরক্লিফটের সাহায্যে পণ্য খালাস এবং ভারতীয় ট্রাক থেকে মালামাল আনলোডের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে।

 

বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক(ট্রাফিক) মো.শামীম হোসেন জানিয়েছেন, অচলাবস্থার কারণে যে জট তৈরি হয়েছিল, তা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে অতিরিক্ত সময় কাজ করা হচ্ছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd