ঈসা (আ.) আগমনের পূর্বে ঘন ঘন ভূমিকম্প—ধর্মীয় গ্রন্থে মিলছে শেষ সময়ের পূর্বলক্ষণ
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে ভূমিকম্প ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের হার অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভূ-বিজ্ঞানীরা যেখানে এটিকে প্রাকৃতিক পরিবর্তন বলে ব্যাখ্যা করছেন, সেখানে ধর্মীয় আলেম–গবেষকরা বিষয়টিকে শেষ যুগের পূর্বলক্ষণ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে ইসলামী হাদীস ও খ্রিস্টধর্মের ইনজিল—উভয় গ্রন্থেই উল্লেখ আছে যে ঈসা (আ.) বা যিশু খ্রিস্টের আগমনের আগে পৃথিবীতে ঘন ঘন ভূমিকম্প হবে।
ইসলামের সহিহ হাদীসে এসেছে—শেষ সময়ে ভূমিকম্পের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং এটি হবে বড় ফিতনা–ফাসাদের অন্যতম পূর্বাভাস। নবী করীম (সা.) বলেছেন, “কিয়ামতের নিকটে ভূমিকম্প ঘন ঘন ঘটবে”—যা দাজ্জালের আবির্ভাব ও পরবর্তী ঘটনাবলীর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ব্যাখ্যা করেন আলেমরা।
অন্যদিকে খ্রিস্টধর্মের নিউ টেস্টামেন্টে, বিশেষ করে ম্যাথিউ ২৪:৭, মার্ক ১৩ এবং লূক ২১–এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—যিশুর আগমনের পূর্বে “বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প, দুর্ভিক্ষ ও মহামারি” দেখা দেবে। ধর্মতত্ত্ববিদদের মতে, ইসলামী বর্ণনা ও ইনজিলের পূর্বাভাস এ বিষয়ে একটি অভিন্ন চিত্র তুলে ধরে।
বিশ্বব্যাপী সাম্প্রতিক বড় ভূমিকম্প—তুরস্ক, জাপান, নেপাল, চিলি, আফগানিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যে ধারাবাহিক কম্পনগুলো ধর্মীয় আলোচনায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, এই অস্বাভাবিকতা শেষ যুগের পূর্বঘটনা হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন—প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের বৃদ্ধিকে শুধুই ধর্মীয় বা কল্পনাভিত্তিক ব্যাখ্যায় দেখা উচিত নয়। বিজ্ঞান ও ধর্ম—দুটি দৃষ্টিকোণ থেকেই বিষয়টি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
ধর্মীয় বিশ্লেষণে দেখা যায়—যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, নৈতিক অবক্ষয়, এবং ঘন ঘন ভূমিকম্প—এসব ঘটনার পরই ঈসা (আ.)-এর আগমনের সময় ঘনিয়ে আসবে বলে বিশ্বাস করা হয়।
ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করা