• সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২০ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
নরসিংদী ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্ট কনসালটেন্ট ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জহিরুল ইসলাম মনোহরদীতে ৩০০ লিটার চোলাইমদ উদ্ধার, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার ইয়াবাসহ নারী আটকের পর যুবককে থানায় ৬ ঘণ্টা রাখার অভিযোগ গাজায় চলমান নৃশংসতার বিরুদ্ধে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যের সমালোচনা ফরিদপুরে সন্ধ্যার পর ২০০ মিটার রাস্তায় ইয়াবার বাজারের অভিযোগ সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, মোট ১৬৪ জনের মৃত্যু বিজিবিতে সিপাহী পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে জেলেনস্কিকে অনুরোধ ট্রাম্পের দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত মুসলিম আলেমদের এআই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

কাজ না করে ২৩৫ কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ, নরসিংদী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশা বহাল

নাজাত ডেস্ক / ১০৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

১১৪

কাজ না করে ২৩৫ কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ, নরসিংদী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশা বহাল

নাজাত ডেস্ক। 

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না করেই মিথ্যা বিলের মাধ্যমে প্রায় ২৩৫ কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফুলকাম বাদশার বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের কথাও সাম্প্রতিক গণমাধ্যম প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা এখনো আদালত বা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রমাণিত হয়নি।

সাম্প্রতিক প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আয়রন ব্রিজ পুনর্নির্মাণ/পুনর্বাসন প্রকল্প (IBRP)-এর সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে ফুলকাম বাদশার বিরুদ্ধে প্রকল্পের বিভিন্ন প্যাকেজে কাজ না করে বিল উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে। প্রতিবেদনে বলা হয়, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় ১২৫টি প্যাকেজসহ মোট ১২৮টি প্যাকেজের বিপরীতে কাজ না করে বিলের মাধ্যমে ২৩৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৮ হাজার ৩০০ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফুলকাম বাদশা ২০২১ সালের ৩০ মে থেকে ২০২৩ সালের ৩ জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের আয়রন ব্রিজ পুনর্নির্মাণ/পুনর্বাসন প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৩ সালের ৩ মে থেকে একই বছরের ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটির পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পরও বর্তমানে তিনি নরসিংদী জেলার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এলজিইডি নরসিংদীর সরকারি ওয়েবসাইটেও মোহাম্মদ ফুলকাম বাদশাকে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

বদলি আদেশ নিয়েও প্রশ্ন

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ সালের ৫ মে জারি করা একটি আদেশে হুমায়ুন কবিরকে নরসিংদীতে বদলি করা হলেও তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেননি এবং পরবর্তীতে ওই বদলি আদেশ বাতিল হয়। এ ঘটনায় ফুলকাম বাদশার নরসিংদীতে বহাল থাকা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বদলি আদেশ বাতিলের প্রকৃত কারণ, কার সুপারিশে তা বাতিল হয়েছে কিংবা কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ছিল কি না—এসব দাবির স্বাধীন সরকারি প্রমাণ এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়গুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।

দুদকের অনুসন্ধানের দাবি

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিরোজপুরের কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ফুলকাম বাদশার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান চলছে। তবে অনুসন্ধানের বর্তমান অবস্থা, কোনো মামলা হয়েছে কি না এবং অভিযোগের বিষয়ে দুদকের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত কী—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

বক্তব্য পাওয়া যায়নি

অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ ফুলকাম বাদশার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে নয়া দিগন্তের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে বদলি আদেশ স্থগিত বা বাতিলের কারণ জানতে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ না করেই বিপুল অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপরও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। তাই অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথিপত্র, কাজের বাস্তব অগ্রগতি, বিল-ভাউচার, পরিমাপ বই, ঠিকাদারি নথি এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগকে অপরাধ হিসেবে চূড়ান্তভাবে প্রচার না করে প্রমাণ, সরকারি নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরা জরুরি।

ফলে এখন মূল প্রশ্ন—২৩৫ কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগের প্রকৃত সত্য কী এবং তদন্তে দায় কার ওপর নির্ধারিত হয়। এর উত্তর মিলবে সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলে।

তথ্যসূত্র নয়া দিগন্ত


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd