স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর বাংলাদেশে ৩ কোটি ৬৩ লাখ মানুষ এখনও নিরক্ষর রয়েছে। তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘুষ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫ অনুযায়ী, দেশের সাত বছর ও তদূর্ধ্ব জনগণের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশ, যা নির্দেশ করে যে ২২.১ শতাংশ মানুষ এখনও অক্ষরজ্ঞানহীন। দেশের মোট জনসংখ্যা ১৭ কোটি ২২ লক্ষ ৮০ হাজার।
আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, বাংলাদেশে সাক্ষরতা বিস্তারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার ২০৩১ সালের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে দারিদ্র্য এখনও সাক্ষরতার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ১৯৭১ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ৮০ শতাংশের বেশি, বর্তমানে তা ২১.৪ শতাংশে নেমে এসেছে।
সাক্ষরতার অভাবে মানুষ কর্মস্থলে কম বেতন পাচ্ছে। ঢাকার বিআরটিএ অফিসে ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার জন্য আসা আজিজুল হক জানান, তিনি লেখাপড়া জানেন না, ফলে লিখিত পরীক্ষায় পাশ করতে পারছেন না। এ ধরনের সমস্যা নিয়ে দেশের বাইরে শ্রমিক হিসেবে যাওয়ার সময়ও অক্ষরজ্ঞানহীন মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে বলেন, সাক্ষরতা শুধু পড়া ও লেখার দক্ষতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি জীবন দক্ষতা ও সমাজের সমৃদ্ধির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সাক্ষরতার নতুন সংজ্ঞা তুলে ধরেন, যেখানে ডিজিটাল দক্ষতা ও সৃজনশীলতার গুরুত্ব রয়েছে।
বর্তমানে ৬৪ জেলার সদর উপজেলায় ‘কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ’ কার্যক্রম চলছে। প্রথম ধাপে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি ৫ হাজার ১২০ জন ঝরে পড়া কিশোর-কিশোরীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। এই প্রশিক্ষণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সহায়তা করবে, যা সরকারের লক্ষ্য।