তকদির বা ভাগ্যের ভালো-মন্দে বিশ্বাস করা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, কিছু তকদিরের বিষয় চূড়ান্ত হলেও কিছু বিষয় দোয়া, নেক আমল ও সদকার মাধ্যমে পরিবর্তিত হতে পারে। বিপদ-আপদ এলে সময় বা ভাগ্যকে দোষারোপ করা ইসলামে অনুমোদিত নয়।
তকদিরকে ইসলামে সাধারণভাবে দুইভাবে ব্যাখ্যা করা হয়—‘মুবরাম’ ও ‘মুআল্লাক’। ‘মুবরাম’ অর্থ চূড়ান্ত বা অপরিবর্তনীয়, আর ‘মুআল্লাক’ অর্থ ঝুলন্ত। মহান আল্লাহ বান্দার তকদির নির্ধারণ করেছেন এবং তা পরিবর্তনের ক্ষমতাও রাখেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সৎকর্ম আয়ু বাড়ায় এবং দোয়া ছাড়া অন্য কিছু তকদির পরিবর্তন করে না। অসৎকর্ম মানুষের রিজিক থেকেও বঞ্চিত করে। জীবনের সংকট ও দুর্ভোগে অনেক মানুষ হতাশ হয়ে নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ করেন, কিন্তু ইসলামী দৃষ্টিতে সময়কে খারাপ বলা ঠিক নয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মহান আল্লাহ বলেন, ‘আদম সন্তান সময় ও কালকে গালমন্দ করে, অথচ আমিই সময়।’ এ কারণে বিপদ-আপদের সময়ে ধৈর্য ধারণ ও আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন আয়াতে ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর আস্থা রাখার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। সুরা বাকারার ১৫৫-১৫৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মানুষকে পরীক্ষা করা হবে এবং ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দেওয়া হবে। তাই বিপদে পড়লে ‘নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাব’—এ কথা বলার শিক্ষা রয়েছে।