বিচ্ছেদের পর বাবা-মায়ের সমান দায়িত্ব এবং শিশুর অভিভাবকত্বে মায়ের স্বীকৃতির দাবি জানানো হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকার দৃকপাঠ ভবনে ‘শিশুদের অভিভাবকত্ব সম্প্রসারণ প্রস্তাব’ (সিজিইপি) নামের শিশু কল্যাণকেন্দ্রিক উদ্যোগের যাত্রা শুরু উপলক্ষে আয়োজিত এক সংলাপে বক্তারা এ দাবি জানান।
সিজিইপি’র আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট দিলরুবা শরমিন বলেন, আইন যখন সন্তানের প্রকৃত পরিচর্যাকারীকে চিনতে ব্যর্থ হয়, তখন মূল্য দেয় কে? তিনি জানান, অনেক মায়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে যারা সন্তানের সব প্রয়োজন একা মিটিয়েছেন, অথচ আইনের চোখে তারা অভিভাবক নন।
সংলাপে কী-নোট উপস্থাপন করেন সিজিইপি’র গবেষক তৃষিয়া নাশতারান। তিনি বলেন, ১৮৯০ সালে প্রণীত আইনি কাঠামো আজকের বাংলাদেশের পারিবারিক বাস্তবতার সঙ্গে ক্রমশ দূরত্ব বাড়াচ্ছে।
অভিনয়শিল্পী আজমেরী হক বাঁধন জানান, ২০১৪ সালে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয় এবং সন্তানের বাবার কথামতো চলতে থাকেন। তিনি বলেন, ‘মাকে কেবল একটি জরায়ু হিসেবে ব্যবহার করে সরিয়ে দেয়া যায়।’
অন্য অভিভাবক ওয়ারদা আশরাফ জানান, ২০১৮ সালে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয় এবং সন্তানদের নিয়ে তার অভিজ্ঞতা ছিল ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হতো না এবং তাকে মানসিক চাপের মধ্যে রাখা হতো।’
দিলরুবা শরমিন বলেন, মা-বাবা উভয়েই শিশুর কল্যাণ চান, তবে রাষ্ট্রেরও দায়বদ্ধতা প্রয়োজন। সিজিইপি’র প্রস্তাবনা ইউনিফর্ম ফ্যামিলি কোর্টের উদ্যোগ থেকে ভিন্ন, কারণ তারা শিশুর সর্বোত্তম মঙ্গলের জন্য একটি নতুন পথ খুঁজছে।