নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার কুমারদী গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে একটি বসতঘরে অগ্নিসংযোগেরঅভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে শিবপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগদায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুমারদী গ্রামের পিতা মৃত হাফেজ জহুরুল হকের ছেলে এরশাদ উল্লাহ (৫৫) অভিযোগ করেন, একই গ্রামের মো. মৃত শামসুদ্দিন এর ছেলে ইসমাইল (৫০), ও তার মেয়ের জামাতাইউসুফ (৩৫) এবং আরও অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলেআসছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ৯ জুলাই ২০২৬ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে দুর্বৃত্তরা তার বসতঘরেরটিনশেডে দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাকরলেও ব্যর্থ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।এঘটনায় প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারী আরওজানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তার ধারণা, পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এঅগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবপুরমডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনাঅভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃতসত্য বেরিয়ে আসবে বলে আমি আশা করছি।’
অপরদিকে ইউসুফ বলেন, ‘এরশাদ উল্লাহর সঙ্গে আমার কোনো জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নেই। আমাকেএবং আমার শ্বশুরকে মিথ্যা অভিযোগে জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।’
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কামরুজ্জামান জানান, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, অগ্নিকা-ের শিকার হওয়া ঘরটিতে বর্তমানে কেউ বসবাস করতেন না। ঘরটিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎসংযোগও ছিল না। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাটিপরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগের হতে পারে।এ ঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে তদন্তশেষ হওয়ার পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সত্যতা নিশ্চিতভাবে জানা যাবে। তদন্ত শেষে আইনানুগব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।