নরসিংদীতে ভূমিকম্প সহনশীল নয় অধিকাংশ বিল্ডিং–– ডেভেলপারদের নিম্নমানের নির্মাণে বাড়ছে ঝুঁকি
নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি।
নরসিংদী আবারও কেঁপে উঠেছে—মাটি কেঁপেছে, মানুষ কেঁপেছে, কেঁপে উঠেছে আমাদের নিরাপত্তা–সচেতনতার ভঙ্গুর দেয়াল। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে পাঁচজন, আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে শতাধিক। মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পড়া দেয়াল, চিৎকার, ধূলায় ঢেকে যাওয়া মানুষ—সব মিলিয়ে ভয়াবহ আতঙ্কের দৃশ্য যেন চোখে লেগে আছে এখনো।
কিন্তু সবচেয়ে দুঃখের কথা হলো—এই মৃত্যুভয়, ধ্বংসস্তূপ, কান্না–কান্নি… সবকিছুই অনেকাংশে এড়ানো যেত। কারণ নরসিংদীর অধিকাংশ ভবনই ভূমিকম্প সহনশীল নয়। বহু বছর ধরে ডেভেলপার কোম্পানিগুলো তড়িঘড়ি করে নির্মাণ করছে বহুতল ভবন—কিন্তু সেই ভবনগুলো কি নিরাপদ? নাকি শুধু ব্যবসার লোভে মানুষকে ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে?
বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন—
ডেভেলপাররা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিল্ডিং তৈরি করে, ফ্ল্যাট বিক্রি শেষ হলেই উধাও হয়ে যায়। তখন ফাটল ধরে দেয়ালে, নড়ে ওঠে পিলার, আর যারা জীবন–ভর সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কিনেছেন—তারা পড়ে যান মরণ ফাঁদে।
সাম্প্রতিক কম্পনে নরসিংদীর বহু স্থাপনায় দেখা গেছে ওয়াল ক্র্যাক, কলাম দুর্বলতা, এমনকি কিছু নতুন নির্মিত ভবনেও দেখা গেছে ভয়াবহ ক্ষতির চিহ্ন। বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট বলছেন—
আরও বড় ভূমিকম্প হলে নরসিংদীতে ঘটতে পারে প্রাণনাশী বিপর্যয়।
তাহলে যে ভয়াবহতা আজ দেখেছি—আগামী দিনে তার চেয়ে বড় ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়াতে হবে আমাদেরই।
নরসিংদীর মানুষের প্রাণের মূল্য কি এতটাই কম? একটা ভবনের ইট-বালুর হিসাব কি মানুষের জীবনের চেয়েও বড়?
সময় এসেছে কঠোর সিদ্ধান্তের—নিরাপদ ভবন চাই, নিরাপদ জীবন চাই।
অন্যথায়, একদিন হয়তো পুরো শহরটাই পরিণত হবে এক অশেষ কান্নার শহরে।