রায়পুরায় বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়নের নামে বিভাজনের সুর! আলোচনায় শুধু আশরাফ উদ্দিন বকুলকে ঠেকানোর পরিকল্পনা
আর এ লায়ন সরকার, নরসিংদী।
রায়পুরা উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের হাটুভাঙ্গা এলাকায় জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য ও সংসদীয় হুইপ মাইনুদ্দিন ভূঁইয়ার বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র উদ্যোগে এক বিশেষ আলোচনা সভা। উদ্দেশ্য ছিল বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন শ্যামল, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসিন হোসেন বিদ্যুৎ, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল আমিন ভূইয়া রুহেল, স্থানীয় সরকার সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন বাদল উপস্থিত ছিলেন।
কিন্তু সভার মূল আলোচনার বিষয়বস্তু ঘুরে যায় অন্যখাতে—
৩১ দফা বাস্তবায়নের পরিবর্তে, পুরো সভা জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন বিএনপি কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহ-দপ্তর সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল।
সভায় উপস্থিত ছিলেন রায়পুরা উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতাকর্মী এবং ছয়জন মনোনয়নপ্রত্যাশী। কিন্তু উপস্থিত নেতাদের বক্তব্যে উঠে আসে আশরাফ উদ্দিন বকুলকে কীভাবে আগামী নির্বাচনে প্রতিরোধ করা যায়, কিভাবে তার মনোনয়ন ঠেকানো সম্ভব—সেইসব বিষয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সভায় জামাল আহমেদ চৌধুরী আশরাফ উদ্দিন বকুলের ব্যক্তিগত ও শারীরিক বিষয়ে কটূ মন্তব্য করেন, যা রায়পুরা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
বহু সাধারণ নেতা-কর্মী ও তৃণমূল বিএনপি সমর্থক এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পূর্ব মির্জানগরের বিএনপি সমর্থক বলেন,
> “আমরা আশা করেছিলাম তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হবে, সেখানে গিয়ে দেখি নেতারা শুধু কে কাকে সরাবে, কে মনোনয়ন পাবে—এই নিয়েই ব্যস্ত। বিএনপির এমন কার্যকলাপে সাধারণ মানুষ হতাশ। আমরা ধিক্কার জানাই এমন রাজনীতিকে।”
অন্যদিকে, সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জামাল আহমেদ চৌধুরী দাবি করেন,
> “রাত ৪টায় আমি খালেদা জিয়ার বাসায় দেখা করে কমিটি পরিবর্তন করিয়েছিলাম।”
তবে তার এই বক্তব্য নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন—রাত ৪টায় সত্যিই কি বিএনপি চেয়ারপারসন কমিটি পরিবর্তনের বৈঠক করতে পারেন? অনেকেই বলছেন, এটি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা।
তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, বিএনপির যেসব নেতারা আজ হঠাৎ করে আলোচনায় আসছেন, নরসিংদী জেলা যুবদলের সভাপতি মহসিন হোসেন বিদ্যুৎ ছাড়া,তাদের অনেকেই গত ১৫ বছর এলাকায় ছিলেন না। বিদেশে দীর্ঘদিন বসবাস করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে দেখা যায়নি তাদের। অথচ এখন তারা নিজেদের “খাঁটি বিএনপি নেতা” দাবি করে মনোনয়ন দৌড়ে নেমেছেন।
অন্যদিকে, দুঃসময়ে রায়পুরা বিএনপির পতাকা হাতে রেখেছিলেন ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল—তার জনপ্রিয়তা এখন অনেকের চোখের কাঁটা বলে মনে করছে স্থানীয় তৃণমূল।
একজন স্থানীয় বিএনপি সমর্থক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন—
> “যখন আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী শাসনে ভয়-ভীতিতে অনেকে ঘরে ছিলেন, তখন আশরাফ উদ্দিন বকুল মাঠে ছিলেন। এখন সেই মানুষটিকেই কোণঠাসা করতে চেষ্টা চলছে কেন?”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রায়পুরা বিএনপির অভ্যন্তরীণ এই বিভক্তি দলকে আরও দুর্বল করে দেবে।
তারা মনে করছেন, যারা দলের আদর্শ ও জনগণের ৩১ দফা কর্মসূচির পরিবর্তে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা ও স্বার্থ নিয়ে আলোচনা করছেন, তারা বিএনপির ভাবমূর্তি ও তৃণমূল ঐক্য নষ্ট করছেন।
স্থানীয় সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন—
> “বিএনপির এই গ্রুপিং আর ব্যক্তিস্বার্থের রাজনীতি কি আওয়ামী লীগকেই আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করছে না?”
তারা আহ্বান জানিয়েছেন,
“বিএনপিকে এখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের আন্দোলনে ফিরতে হবে, নয়তো ভবিষ্যৎ বিপন্ন হয়ে পড়বে।”