পণ্য কেনাকাটা না করে কেবল নগদ অর্থ উত্তোলনের জন্য 'বাংলা কিউআর' ব্যবহার করা হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলা কিউআর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উদ্যোগ নয়, এটি সরকারের ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে তোলার একটি সার্বিক উদ্যোগ। এর মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিটি লেনদেনের সঠিক তথ্য ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা। তিনি আরও জানান, সেবা প্রদানে কোনো ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান গড়িমসি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলা কিউআরের ব্যবহার ও প্রবৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরা হয়। বর্তমানে ব্যাংক ও এমএফএস গ্রাহকরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্টের বাংলা কিউআর স্ক্যান করে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করছেন। গত জুনে দৈনিক গড়ে এক লাখ বাংলা কিউআর পেমেন্ট হতো, যার আর্থিক পরিমাণ ছিল প্রায় ২৮ কোটি টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে দৈনিক গড়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ লেনদেনে উন্নীত হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
বাংলা কিউআর লেনদেনের প্রচার ও প্রসার বাড়াতে সংবাদ সম্মেলনে কিছু নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়া হয়। আগামী ১ অক্টোবর থেকে সব বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্টের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে জমা হবে। এছাড়া মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর ১ শতাংশ সম্পূর্ণ রহিত করা হয়েছে এবং ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের চার্জ শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে মার্চেন্ট পয়েন্টে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত এনপিএসবি প্ল্যাটফর্মের প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনের বিপরীতে পেমেন্ট গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ এবং ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া আগামী ১ নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরভিত্তিক ব্যক্তিপর্যায়ের লেনদেন চালু হতে যাচ্ছে।