মালয়েশিয়া মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রায় ১ হাজার ৫০০ শরণার্থীকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আপত্তি সত্ত্বেও এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু হয়।
এটি মিয়ানমারের সঙ্গে মালয়েশিয়ার একটি বৃহত্তর প্রত্যাবাসন পরিকল্পনার প্রথম ধাপ, যার আওতায় সর্বোচ্চ ৫ হাজার শরণার্থীকে ফেরত পাঠানো হবে। মালয়েশিয়া জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি স্বেচ্ছামূলক। তবে ইউএনএইচসিআর এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
মালয়েশিয়ার পেরাক রাজ্যের লুমুত নৌঘাঁটির কাছে একটি স্টেডিয়ামে নিরাপত্তা যানসহ বাসগুলো এসে পৌঁছায়। পরে বাসগুলো বন্দরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে মিয়ানমারের দুটি নৌযান ও একটি হাসপাতাল জাহাজ নোঙর করা ছিল।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। মন্ত্রণালয়ের পূর্ববর্তী বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১ হাজার ৪৭৬ জন নাগরিককে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে অস্থিরতা চলছে। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি শরণার্থীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের উপযোগী নয়। মালয়েশিয়ায় বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার মিয়ানমার শরণার্থী রয়েছে, যাদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই রোহিঙ্গা।
ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে ইউএনএইচসিআরের কার্ডধারী একজনও রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রতিনিধিরা, যারা পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার আলোকে আশঙ্কা করছেন যে, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিরা জোরপূর্বক সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ কিংবা আটকের মুখে পড়তে পারেন।