ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে হত্যার শিকার তোফাজ্জল হোসেনের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার। এ উপলক্ষে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নের তালুকের চরদুয়ানী গ্রামে খতমে কোরআন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তোফাজ্জল হোসেন (৩২) তালুকের চরদুয়ানী গ্রামের মৃত আবদুর রহমানের ছেলে। তিনি বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে বাংলা বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, তোফাজ্জলের বাবা ও মা মারা যাওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং পরে ঢাকায় অবস্থান শুরু করেন।
২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে তোফাজ্জলকে আটক করা হয়। তাঁকে মারধর করা হয় এবং গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন তোফাজ্জলের মামাতো বোন তানিয়া। মামলার তদন্ত শেষে প্রথম দফায় ২১ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে পাঠানো হয়।
মামলার আইনজীবী ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান জানান, বর্তমানে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে মামলাটি। তিনি বলেন, প্রথমে আটজনকে আসামি করা হয়েছিল, পরে তদন্তে আসামির সংখ্যা বাড়িয়ে মোট ২৮ জন করা হয়েছে।
দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে তোফাজ্জলের গ্রামের বাড়িতে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। তোফাজ্জলের চাচা ফজলুর রহমান বলেন, তাঁরা দুই বছর ধরে প্রিয় মানুষটির হত্যার বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানান।