সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পুরাতন সুরমা নদী থেকে লাকি বেগম (৪০) নামে এক গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের দুইদিন পর সোমবার রজনীগঞ্জ ইউনিয়নের টানাখালি এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।
নিহত লাকি বেগম দিরাই উপজেলার জগদল গ্রামের মৃত আব্দুস শহিদ মিয়ার মেয়ে। স্বামী পরিত্যক্তা ও নিঃসন্তান লাকি গত প্রায় ১১ মাস ধরে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের সলফ গ্রামের কামাল মিয়ার বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করছিলেন। তার বাবা-মা ও একমাত্র ভাই আগেই মারা গেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২১ আগস্ট সকালে নাস্তা তৈরির পর লাকিকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় গৃহকর্তা কামাল মিয়া শান্তিগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে লাকির সঙ্গে একটি মোবাইল ফোন, কাপড়ের ব্যাগ, বাড়ির প্রধান ফটকের চাবি ও একটি স্টিলের বাক্স নিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
তবে লাকির স্বজনদের দাবি, এটি নিখোঁজের ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নিহতের ছোট চাচা দবির মিয়া গৃহকর্তা কামাল মিয়ার বিরুদ্ধে তার ভাতিজিকে হত্যার অভিযোগ এনে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে কামাল মিয়ার বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। দিরাই থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের পর পরিচয় শনাক্ত করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।