বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জলরাশি, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক শক্তির সম্ভাবনার ক্ষেত্র। তবে, বর্তমানে বাংলাদেশ গ্যাসের ঘাটতির মুখোমুখি হচ্ছে এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করতে বাধ্য হচ্ছে। শিল্পকারখানা গ্যাসের অভাবে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা অর্জন একটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক বিজয়। ২০১২ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের রায়ে এবং ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে বিরোধে জাতিসংঘের সালিশি ট্রাইব্যুনালের রায়ে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হয়। এই রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমুদ্রসম্পদের ওপর আন্তর্জাতিক আইনগত ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ওএনজিসি ভিডেশ লিমিটেড ও অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডকে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দিয়েছিল। তবে, এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনযোগ্য গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় গ্যাসের সম্ভাবনা চিহ্নিত হলেও তা প্রকাশ করা হয়নি।
ভারত ও মিয়ানমার তাদের নিজস্ব সামুদ্রিক অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন করছে। ভারতের কৃষ্ণা-গোদাবরী অববাহিকায় এবং মিয়ানমারের বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, প্রতিবেশীদের সাফল্যের পরও কেন বাংলাদেশে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়নি।
এই বৈপরীত্যের শিক্ষা হলো, সম্ভাবনা থাকলেই সম্পদ পাওয়া যায় না; অনুসন্ধান ও তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন। প্রতিবেশীরা তাদের সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তর করছে, বাংলাদেশকেও একই পথে এগোতে হবে।