কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় জাহিদুল ইসলাম জিন্নাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি লিয়াকত হোসেন লিমনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। রোববার (২ আগস্ট) আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
লিয়াকত হোসেন লিমন (২৩) জাতীয় ছাত্র শক্তি’র মীর ইসমাইল হোসেন কলেজ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক। গত ৩০ জুলাই গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৩। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজারহাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতিকুর রহমান জানান, হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ২৮ জন আসামির মধ্যে প্রধান আসামি ও ৭ নারীসহ মোট ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া অন্য আসামিরা হলেন- জয়নাল হক (৪৪), রওশন (৪২), গরিবুল্লাহ (৪৫), রেজাউল করিম (২২), রিয়াদ আলী (১৯), গওসুল (৭০), নাইমুল ইসলাম নয়ন (১৮), জিন্না বেগম (৬০), নুরবানু (৩৮), লিপি বেগম (৩৭), হেলেনা বেগম (৩৭), আনোয়ারা বেগম (২৮), আশফিকা আক্তার (১৯) এবং আশা মনি (২০)।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নের ডাংঘাট গ্রামের জয়নাল হোসেন গোষ্ঠী ও জাহেদুল ইসলাম জিন্নাত (৪৫) গোষ্ঠীর মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত ১৪ জুলাই জিন্নাত নিজের জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করতে গেলে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে লিমন ধারালো বল্লম দিয়ে তার বুকে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে ২৮ জনকে আসামি করে রাজারহাট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। নিহতের ছেলে সাকিব বলেন, "আমার বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।"
রাজারহাট থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেছেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-১৩-এর সহযোগিতায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। মামলার বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।