সিন্ডিকেটের দাপট—কোন পথে আমাদের বাজারব্যবস্থা? কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রির জন্য ওসির সহযোগিতায় দোকান বন্ধ।
আর এ লায়ন সরকার, নরসিংদী।
কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রি করে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা ‘নবীন পাঞ্জাবি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নবীন হাশেমির দেশত্যাগের ঘটনা আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রশাসনিক বাস্তবতার একটি উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এনেছে। একজন উদ্যোক্তা, যিনি সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে বাজারে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি করতে চেয়েছিলেন, তিনি যদি হুমকি, হয়রানি এবং অবশেষে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন—তবে প্রশ্ন জাগে, আমরা আসলে কেমন অর্থনৈতিক পরিবেশে বসবাস করছি?
বাংলাদেশের মুক্তবাজার অর্থনীতির মূল ভিত্তি হওয়া উচিত সুস্থ প্রতিযোগিতা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেক ক্ষেত্রে একটি অঘোষিত ‘সিন্ডিকেট’ বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় নতুন উদ্যোক্তাদের দমিয়ে রাখতে চায়। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত দামের নিচে পণ্য বিক্রি করলেই বাধা, হুমকি, এমনকি প্রশাসনিক চাপের মুখোমুখি হতে হয়—এটি শুধু অন্যায়ই নয়, বরং বাজারব্যবস্থার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব ঘটনায় প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদি সত্যিই কোনো ব্যবসায়ীকে অন্যায়ভাবে দোকান বন্ধ করতে বাধ্য করা হয় বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে প্রতিযোগিতা দমন করা হয়, তাহলে তা আইনের শাসনের পরিপন্থী। প্রশাসন কখনোই কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হতে পারে না—বরং তাদের দায়িত্ব সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
নবীন হাশেমির বক্তব্য অনুযায়ী, তার প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী, হিজড়া সম্প্রদায় ও পুনর্বাসিত মাদকাসক্তদের কর্মসংস্থান ছিল। অর্থাৎ এটি কেবল একটি ব্যবসা নয়, একটি সামাজিক উদ্যোগও ছিল। এমন উদ্যোগ যদি টিকে থাকতে না পারে, তবে তা আমাদের সামাজিক অগ্রগতির জন্যও একটি নেতিবাচক বার্তা বহন করে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সরকারের প্রতি আহ্বান—
প্রথমত, বাজারে সিন্ডিকেট ভাঙতে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, নতুন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
তৃতীয়ত, প্রশাসনের জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে, যাতে কোনো ধরনের অপব্যবহার না ঘটে।
আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে একজন উদ্যোক্তা ভয় নয়, সাহস নিয়ে ব্যবসা করতে পারবেন; যেখানে সৎ উদ্যোগকে দমন নয়, উৎসাহ দেওয়া হবে; এবং যেখানে প্রশাসন হবে জনগণের ভরসার প্রতীক, কোনো গোষ্ঠীর নয়।
নইলে প্রশ্নটি থেকেই যাবে—
আমরা কি সত্যিই স্বাধীন বাজারে বাস করছি, নাকি সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রিত এক অদৃশ্য শৃঙ্খলে আবদ্ধ?