শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে গুরুত্ব না দিয়ে ফলাফলের পরিসংখ্যানকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নবম শ্রেণিতে নিবন্ধিত প্রায় ১৮ লাখ ৯৫ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছে ১৪ লাখ ৪৮ হাজার। এর ফলে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ শিক্ষার্থী হারিয়ে গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনেক শিক্ষার্থী নির্বাচনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও মূল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়নি। কিছু শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত জিপিএ না পাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। এই পরিস্থিতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নৈতিকতার প্রশ্ন তুলছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের জীবন ও ভবিষ্যৎকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত দুর্বল শিক্ষার্থীদের উন্নতির জন্য কাজ করা, কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেদের ফলাফল উজ্জ্বল করতে দুর্বল শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিচ্ছে। এই কৌশলকে 'শতভাগ সাফল্য' হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, যা শিক্ষার মৌলিক ধারণার প্রতি এক ধরনের অবমাননা।
শিক্ষা বোর্ডগুলির কাছে একটি সুযোগ রয়েছে, যাতে নবম শ্রেণির নিবন্ধন ও এসএসসি ফরম পূরণের তথ্য ডিজিটালভাবে সংযুক্ত করে ঝরে পড়ার হার প্রকাশ করা যায়। অস্বাভাবিক ব্যবধান দেখা দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরীক্ষা শুরু করা যেতে পারে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষা করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করা উচিত নয়। শিক্ষার মান ও নৈতিকতা রক্ষা করতে হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।